পাখিদের বাঁচাতে ২০ বছর ধরে বাজিহীন দীপাবলি! তামিলনাড়ুর একাধিক গ্রামের অনন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 9 h ago
পাখিদের বাঁচাতে ২০ বছর ধরে বাজিহীন দীপাবলি! তামিলনাড়ুর একাধিক গ্রামের অনন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
পাখিদের বাঁচাতে ২০ বছর ধরে বাজিহীন দীপাবলি! তামিলনাড়ুর একাধিক গ্রামের অনন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
 
চেন্নাই: 

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব, আতশবাজি আর আলোর রোশনাই। কিন্তু উৎসবের আনন্দে সামিল হয়েও শব্দবাজি থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন তামিলনাড়ুর একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। পাখিদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে টানা ২০ বছর ধরে বাজিহীন দীপাবলি পালন করে আসছেন তাঁরা। উৎসবের আনন্দ বিসর্জন না দিয়েও কীভাবে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব পালন করা যায়, তারই নজির গড়েছেন এই গ্রামবাসীরা।

তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার ভেল্লোডে পাখিরালয়ের আশপাশে অবস্থিত এক ডজনেরও বেশি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই জলাভূমিতে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পাখির আনাগোনা থাকে। এই সময় তাদের প্রজনন ও বাসা বাঁধার মরশুমও চলে। বাজির বিকট শব্দ ও ধোঁয়ায় পাখিদের স্বাভাবিক জীবন এবং প্রজনন প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সেই চিন্তা থেকেই প্রায় দুই দশক আগে বাজি না পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

প্রায় ২৪০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ভেল্লোডে পাখিরালয়ের মধ্যে রয়েছে ৫০ একরের একটি জলাশয়। এখানে পেইন্টেড স্টর্ক, এশিয়ান ওপেনবিল, ব্ল্যাক-হেডেড আইবিস, লিটল কর্মোর্যান্ট ও গ্রে হেরনের মতো পাখি দেখা যায়। পাশাপাশি সাইবেরিয়া, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকেও বহু পরিযায়ী পাখি আসে। জলাশয়ের মাছ খেয়ে তারা সেখানে বাসা বাঁধে এবং বাচ্চাদের বড় করে তোলে। 

মেট্টুপালায়ম, পুঙ্গাম্বাডি ও এল্লাপালায়ম-সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনার কথায়, পাখিদের ভয় না দেখিয়ে নিরাপদে বাঁচতে দেওয়ার জন্যই তাঁরা স্বেচ্ছায় বাজির আনন্দ ত্যাগ করেছেন।

তবে বাজি না পোড়ালেও দীপাবলির আনন্দে কোনও খামতি থাকে না। নতুন পোশাক পরা, মিষ্টি তৈরি এবং পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন—সবই চলে নিজেদের মতো করে। চেল্লাপালায়ম, কুথাপালায়ম, ভাদাগালপুদুর ও কালারপালায়মের বাসিন্দারাও একইভাবে পরিবেশবান্ধব দীপাবলি পালন করেন।

উৎসবের আনন্দ যে শুধু আতশবাজির শব্দে নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়, তামিলনাড়ুর এই গ্রামগুলির দীর্ঘদিনের উদ্যোগ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।


অধিক পঢ়ক

শেহতীয়া খবৰ