১০০ কেজিরও বেশি সোনা-রুপোয় সেজেছেন নৈহাটির বড়মা! বড়মার কপালে হিরের টিপ, মুকুট সহ গা ভর্তি গয়না, মায়ের দর্শন পেতে জনসমুদ্র

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
১০০ কেজিরও বেশি সোনা-রুপোয় সেজেছেন নৈহাটির বড়মা! বড়মার কপালে হিরের টিপ, মুকুট সহ গা ভর্তি গয়না, মায়ের দর্শন পেতে জনসমুদ্র
১০০ কেজিরও বেশি সোনা-রুপোয় সেজেছেন নৈহাটির বড়মা! বড়মার কপালে হিরের টিপ, মুকুট সহ গা ভর্তি গয়না, মায়ের দর্শন পেতে জনসমুদ্র
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ 

১০৩ বছরে পা দিতে চলেছে নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো। সকাল থেকেই বড়মার দর্শনের পাশাপাশি দণ্ডি কাটতেও দেখা গেল ভক্তদের। মায়ের দর্শন পেতে নৈহাটির বড়মার মন্দির চত্বরে সকাল থেকেই যেন জনসমুদ্র। ধার্মিকরা বলে থাকেন, ঈশ্বরের ডাক না পেলে তাঁর কাছে পৌঁছনো যায় না। নৈহাটির বড়মা কালীর পুজোকে ঘিরে ভক্তদের এই উচ্ছ্বাস যেন সেই চিরাচরিত কথাকে বারবার সত্যি করে তোলে।
 
প্রতি বছর কালীপুজো উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। বিশ্বাস করা হয়, মায়ের কাছে এসে কিছু চাইলে মা ভক্তের মনের বাসনা পূরণ করেন। কালীপুজোর দিন সকাল থেকেই শুধুমাত্র একবার মায়ের দর্শন পাওয়ার আশায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করেন। স্টেশন চত্বর থেকে মন্দিরের রাস্তা সর্বত্রই শোনা যায় ‘জয় বড়মার জয়’ ধ্বনি। বছরের পর বছর ধরে ভক্তদের মানত আর স্বেচ্ছায় দেওয়া দানে সমৃদ্ধ হয়েছে মায়ের অলঙ্কারের ভাণ্ডার।
 
১০৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুজোয় এ বারও সেই আকর্ষণ যেন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। হিরের টিপ, সোনার মুকুট আর রুপোর চাঁদমালায় অপরূপ সাজে সেজে উঠেছেন নৈহাটির বড়মা। সকাল থেকেই তাঁকে একবার চোখের দেখা দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে নৈহাটির ফেরীঘাটের অরবিন্দ রোডে। কোথাও দেখা যাচ্ছে মানত পূরণের প্রার্থনা তো কোথাও দুহাত জোড় করে চোখের জলে মায়ের কাছে মনের কথা বলছেন ভক্তরা। কেউ আবার দণ্ডি কেটে পৌঁছে যাচ্ছেন মায়ের কাছে। আসলে ভক্তদের কাছে বড়মা হলেন বিপদের দিনে শেষ আশ্রয়। তাই তো কালীপুজোর দিনে নৈহাটির বড়মাকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের ছবি যেন অন্য সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়।
 
দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভক্তির বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছেন নৈহাটির বড়মা। মায়ের অপরূপ সাজসজ্জা দেখতে সকাল থেকেই নৈহাটির অরবিন্দ রোডে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়।এবারের পুজোয় বড়মার সাজের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর অলঙ্কার। জানা গেছে, প্রায় ১ কুইন্টালের ও বেশি ওজনের  সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছে বিশালাকার প্রতিমাকে। মাথায় সোনার মুকুট, গলায় একের পর এক নেকলেস, হাতে বালা ও চুড়ি, পায়ে নুপুর। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে ভক্তদের নজর কেড়েছে মায়ের কপালের ঝলমলে হিরের টিপ। মুকুট থেকে শুরু করে চাঁদমালা, ত্রিনয়ন, জিহ্বা, ভুরু এবং নাকের অলঙ্কার, মায়ের সাজে রয়েছে সোনার একাধিক সামগ্রী।
 
১০০ কেজিরও বেশি সোনা-রুপোয় সেজেছেন নৈহাটির বড়মা
 
প্রতিটি গয়নার পিছনে জড়িয়ে রয়েছে কোনও না কোনও ভক্তের বিশ্বাস।  বছরের পর বছর ধরে ভক্তদের দানেই ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়েছে বড়মার অলঙ্কারের ভাণ্ডার। কেউ সন্তান লাভের আশায় মানত করেন, কেউ বিপদ থেকে মুক্তি পেয়ে মায়ের কাছে সোনা-রুপোর গয়না নিবেদন করেন। আবার কেউ কোনও বিশেষ প্রাপ্তির আনন্দে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেন অলঙ্কার। এ ভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্তদের বিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়েছে বড়মার সাজ। নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু বিশেষ রীতিও। মায়ের সোনার চোখ নিয়ে রয়েছে আলাদা নিয়ম। বিসর্জনের সময় সেই চোখ খোলা হয় না। প্রতিমার সঙ্গেই তা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বারও সেই ঐতিহ্য বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি।
 
অন্য দিকে, বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপোর অলঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মন্দির চত্বরজুড়ে বসানো হয়েছে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মোতায়েন রয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। বিপুল ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে মায়ের দর্শন করাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। জানা গেছে, বিসর্জনের দিন হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে পুজো কমিটির। ফলে বড়মার বিদায়বেলাতেও যে বিশেষ আকর্ষণ অপেক্ষা করছে, তা বলাই যায়।


শেহতীয়া খবৰ