৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান: রঞ্জি ট্রফির শিরোপা এবার জম্মু–কাশ্মীরে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 11 h ago
৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান: রঞ্জি ট্রফির শিরোপা এবার জম্মু–কাশ্মীরে
৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান: রঞ্জি ট্রফির শিরোপা এবার জম্মু–কাশ্মীরে
 
শ্রীনগর 

ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে লিখে গেলো নতুন এক ইতিহাস। রঞ্জি ট্রফি ২০২৫–২৬ মৌসুমে জম্মু ও কাশ্মীর এমন এক সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের ক্রিকেট যাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে। তারকা সমৃদ্ধ কর্ণাটককে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে তারা। এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল পেসার অকিব নাবির বিধ্বংসী বোলিং, প্রথম ইনিংসে শুভম পুনদির সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে কামরান ইকবালের অসাধারণ শতক।
 
জম্মু ও কাশ্মীর ১৯৬০ সালে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক করেছিল। কিন্তু তাদের প্রথম জয় আসে ১৯৮২ সালে, প্রায় ২২ বছর পর, ৯৯তম ম্যাচে। মজার বিষয়, একই বছর কর্ণাটক তাদের তৃতীয় রঞ্জি ট্রফি শিরোপা জেতে। অতীতের সেই সংগ্রামের দিনগুলো পেছনে ফেলে বিগত দশকে দলটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ফুটে ওঠে। ২০১৩–১৪, ২০১৯–২০ এবং ২০২৪–২৫ মৌসুমে তারা পৌঁছায় কোয়ার্টার ফাইনালে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছিল।
 
২০২৫–২৬ মৌসুমের ফাইনাল ছিল রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৪৬তম ম্যাচ। আর এই ম্যাচটি তাদের মাত্র ৪৭তম জয় হলেও তা সবচেয়ে স্মরণীয় বিজয়। সারা মৌসুমে তারা কেবল একটি ম্যাচ হেরেছে, সেটিও মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে শ্রীনগরে। বাকি প্রতিটি ম্যাচেই ছিল নজরকাড়া পারফরম্যান্স।
 
ফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মু ও কাশ্মীর ৩৪২/৪ স্কোরে ইনিংস ঘোষণা করে। ওপেনার কামরান ইকবাল খেলেন অপরাজিত ১৬০ রান (৩১১ বল) এবং সাহিল লোত্রা করেন ১০১ (২২৬ বল)। তাদের ১৯৭ রানের জুটি দলের লিডকে এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে কর্ণাটকের আর লড়াই করার কোনো সুযোগ ছিল না। ইনিংস ঘোষণা করার সময় জম্মু ও কাশ্মীরের লিড ছিল বিশাল ৬৩৩ রান।
 
প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ ছিল আরও দাপুটে-৫৮৪। শুভম পুনদিও খেলেন ১২১ রানের মহার্ঘ ইনিংস। এছাড়া ইয়াওয়ার হাসান (৮৮), অধিনায়ক পারাস দোগরা (৭০), অবদুল সামাদ (৬১), কনহাইয়া ওয়াধওয়ান (৭০) এবং সাহিল লোত্রা (৭২) মূল্যবান রান যোগ করেন। কর্ণাটকের হয়ে অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগরওয়াল লড়াকু ১৬০ রান করলেও তা ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেনি। কারণ অকিব নাবি তার ভয়ংকর স্পেল ৫/৫৪–এ শিকার করেন রাহুল, আগরওয়াল এবং করুণ নায়ারের মতো তারকা ব্যাটারদের।
 
পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও টেস্ট অভিজ্ঞতায় ভরা স্কোয়াড থাকার কারণে ফাইনালের আগে কর্ণাটককেই ছিল ফেভারিট। তবে বাস্তবে ফাইনালের কোনো পর্যায়েই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এমনকি পঞ্চম দিনের শেষ দিকে রাহুল, করুণ ও আগরওয়ালের মতো ব্যাটারদের বোলিং করতে দেখা যায়, যা কর্ণাটকের অসহায় অবস্থার প্রতিচ্ছবি।
 
জম্মু ও কাশ্মীরের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং প্রমাণ যে কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রও বদলে দেওয়া যায়। এটি পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার শক্তিশালী উদাহরণ এবং ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প।