পশ্চিম বঙ্গের প্রথম মহিলা গোলকিপার কোচ মহিমা খাতুন এখন ভারতীয় জুনিয়র মহিলা দলের গোলরক্ষক প্রশিক্ষক

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 5 h ago
মহিমা খাতুন
মহিমা খাতুন
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

সমাজে অনেক সাফল্যের গল্প শোনা যায়, কিন্তু কিছু গল্প থাকে যা সত্যিই অনুপ্রেরণার আলো ছড়ায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে হার মানিয়ে, সীমাহীন পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এক নারী কীভাবে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মহিমা খাতুন। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে আজ তিনি ভারতীয় ফুটবলের এক গর্বের নাম।
 
হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের এক গরিব পরিবারের মেয়ে মহিমা খাতুন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে রাজ্য স্তরের একজন ভালো ফুটবলার তৈরি করার। সংসারের দারিদ্রতার মাঝেই অনেক পরিশ্রম করে ফুটবলকে ভালোবেসে এগিয়ে গেছেন।
 

স্বপ্নটা তার দেখা বৃথা যায়নি। তিনি খেলেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রথম ডিভিশন ক্লাবে, যার মধ্যে রয়েছে তালতলা দীপ্তি, বেহালা ঐক্য, সেবায়নী, বালিগ্রাম অঞ্চল, ইনটেনশন ক্লাব। শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নটা আরও সার্থক হয় যখন তিনি কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সুযোগটা পেলেন।  ২০১৯ থেকে ২০২০ তিনি খেলেছেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে।
 
খেলার মাঝে তার ইচ্ছাটা ছিল ফুটবল কোচিং লাইনে আসার। তার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন তিনি ডি লাইসেন্স কোচিং করলেন মিনার্ভা পাঞ্জাব ফুটবল একাডেমী থেকে ২০২১ সালে। ডি লাইসেন্স কোচিং করার পর তিনি বরোদা ফুটবল একাডেমীতে ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত কোচিং করান।
 
মহিমা খাতুন
 
এরপর ২০২৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে আদিতি ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্টসে ছেলে ও মেয়েদের কোচিং করান। এছাড়াও বেঙ্গল টিম জুনিয়ার্স গার্লস, ভবানীপুর অনূর্ধ্ব ১৩ ও ১৭ ছেলেদের কোচিং করিয়েছেন। এই মহিমাই হলেন পশ্চিম বঙ্গের প্রথম মহিলা গোলকিপার কোচ।
 
এরপর তার জীবনে এলো একটা বড় সুযোগ। তিনি ২০২৬এ এআইএফএফের থেকে সুযোগটা পেলেন ফিফা ট্যালেন্ট অনূর্ধ্ব১৫ তে গোলরক্ষকদের কোচিং করানোর দায়িত্ব। এখন তিনি হায়দ্রাবাদের এআইএফএফের কোচিং ক্যাম্পে  আছেন।
 
মহিমা খাতুন
 
মনে হচ্ছে, মহিমার এই সাফল্য সহজেই এসেছে। তা কিন্তু নয়। গল্পটা শুনুন। ২০২০ সালের লকডাউনের সময় যখন ময়দানে খেলাধুলা সব বন্ধ তখন তিনি সংসারের তাগিদে একটা ফ্লিপকার্ট কোম্পানিতে ডেলিভারি গার্লসের কাজ বেছে নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল মহিলা দলের এই গোলরক্ষক। তার ডেলিভারির কাজগুলির মধ্যে ছিল আলমারি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন,নানা ইলেকট্রনিক্স গুডসের মত জিনিসগুলো। তিনি প্রতিদিন অক্লান্তভাবে  কাস্টমারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন। এই ছিল লকডাউন পিরিয়ডে ফুটবলার মহিমার কাজ। ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে কোন মহিলা ক্রীড়াবিদ এত পরিশ্রম করে উঠে এসেছেন এ দৃষ্টান্ত আছে বলে মনে হয় না।
 
এরমধ্যে তিনি ঘর সংসারও বেধেছেন। কলকাতা ময়দানের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ফুটবল খেলা ফারুখ সেখকে তিনি জীবন সাথী করেছেন। মহিমার ইচ্ছা আগামী দিনে ভারতের সিনিয়র মহিলা দলের গোল রক্ষকদের প্রশিক্ষক হওয়ার।