শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী:
কলকাতা তিন প্রধানের অন্যতম মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব গতবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার আইএসএলে খেলছে। আই এসএলএ খেলার আনন্দটাই এবার মাটি হয়ে গেল তাদের কাছে।কলকাতা দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান যেখানে পয়েন্ট তালিকায় ওপরের দিকে আছে সেখানে কলকাতা তিন প্রধানের অন্যতম কেন অতীতের ভারতীয় ফুটবলের এই দুর্ধর্ষ দলটা এখন আইএসএলে হামাগুড়ি খাচ্ছে। করুন দশা! ১৪ টা দলের মধ্যে পয়েন্ট শুন্য দল হিসেবে পয়েন্ট তালিকায় একেবারে সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে! কি করুন অবস্থা এই দলটার।
একটার পর একটা ম্যাচ হেরেই চলেছে দলটা। এবারের আইএসএলে একেবারেই 'নখদন্তহীন' একটা দল তারা। তারা খেলতে নামলেই বিপক্ষ দল জেনেই যায় এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট তাদের আসছেই। ময়দানের রেড রোডের ক্লাবটা যেন অতীতের ছায়া মাত্র। আর সেটাই যেন দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে।
কেন এমন হচ্ছে?
আর্থিক সঙ্কট ও ট্রান্সফার ব্যান থাকায় এ বার মহামেডান বিদেশি ফুটবলার নিতে পারেনি। ১৪ টিমের আইএসএলে মহামেডানই একমাত্র টিম যাদের বিদেশি নেই। তার মধ্যেই স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে টিম গড়ে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। কিন্তু এমন টিম যে দারুণ কিছু করতে পারবে না তা যেন তিনি প্রথম চারটে খেলা দেখেই বুঝে গেছেন।
৭ মার্চ কলকাতা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেঙ্গালুরু ম্যাচ ২-১এ হারার পর কোচ মেহেরাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'আমরা ভারতীয় খেলোয়ারদের নিয়েই খেলছি। তাই আইএসএল এর মত টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়ারদের নিয়ে শক্তিশালী তৈরি দলগুলোর সঙ্গে লড়াইটা খুবই কঠিন। চাপ ও তীব্রতা মোকাবিলা করতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এখন পর্যন্ত আমরা চারটে ম্যাচ খেলেছি। এখনো ড্র কিংবা জয়ের মুখ আমরা দেখতে পাইনি। ভারতীয় খেলোয়াড় নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত কতটা সাফল্য আসবে সেটা নিয়েই ভাবছি'।
কোচ মেহরাজউদ্দিন কেন, বুঝে গিয়েছেন ভক্তরা। তাই ঘরের মাঠেও প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে ভীড় জমাচ্ছেন না। আসলে
কেউই টিমের এই দুর্দশা দেখতে চাইছেন না।
এবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) মরসুমে মহমেডান স্পোর্টিং এখন অবনমন এড়াতে লড়াই করে চলেছে। লিগ চলাকালীনও কোনও বিনিয়োগকারী নেই এবং ফিফা-আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ। যা পরিস্থিতি তাতে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটিকে কোনও বিদেশী নিয়োগ ছাড়াই আইএলএলের মতো টুর্নামেন্টে খেলে যেতে হচ্ছে।
ক্লাব সচিব ইশতিয়াক (রাজু) আহমেদ আইএস এল শুরুর আগে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন,"আমরা আশাকরি খুব শীঘ্রই সব সমস্যার সমাধান করতে
পারব।"
কিন্তু কোথায় কি।মোহামেডান যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই!