আজ শিলিগুড়িতে টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিন, বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল উত্তর ২৪ পরগনা
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী:
আজ শিলিগুড়িতে রাজ্য ও আন্তঃ জেলা টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিন। গত এক সপ্তাহ ধরে এই প্রতিযোগিতা চলছে নানা বিশৃঙ্খলার মধ্যে। গত শনিবার অনুর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের দলগত বিভাগে শিলিগুড়ি-উত্তর ২৪ পরগনার একটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইন্ডোর স্টেডিয়ামের চেয়ার লণ্ডভণ্ড করার অভিযোগ উঠেছিল উত্তর ২৪ পরগনার বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার এই অসভ্যতার অভিযোগ এনে সরব হয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মান্তু ঘোষ ও প্রতিযোগিতার কর্মকর্তারাও।শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে উদ্যোক্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা টেবিল টেনিস কর্তারা।
গত শনিবার রাতে অনুর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের সেমিফাইনালে শিলিগুড়ির বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনার ম্যাচে একটি পয়েন্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার কর্মকর্তারা। উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল শিলিগুড়ির প্রতীতি পাল ও উত্তর ২৪ পরগনার শ্রীজয়ী মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে নির্ণায়ক ম্যাচে। ম্যাচে এগিয়ে ছিল প্রতীতি। সেই সময় প্রতীতির একটি সার্ভিস লেট ছিল বলে দাবি করে ২৪ পরগনার প্রতিযোগী। অভিযোগ, সেই সময় খেলা বন্ধ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে উত্তর ২৪ পরগনার ঋষিকেষ ঘোষ নামে এক এক কর্মকর্তা। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানোর জন্য খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকী তারা পদক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এই ঘটনায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা কোনও মতেই কাম্য ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা টেবিল টেনিসের বর্ষীয়ান কোচ মিহির ঘোষ। আজ মিহির ঘোষ বলেন, “টেবিল টেনিসের এই অঙ্গন কোনও বিক্ষোভ বা ধর্না দেওয়ার জায়গা নয়। যেভাবে সেদিন খেলা বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে, সেটাকে আমি সমর্থন করি না। যা হয়েছে, খুবই অন্যায় হয়েছে।এত সুন্দর একটা প্রতিযোগিতাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এরজন্য জেলা টেবিল টেনিসের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবেই ক্ষমাপ্রার্থী।”
শুধু মিহিরবাবুই নন, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শান্তনু সাহা। সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না। থাকলে এমন বিশৃঙ্খলা হতো না।খুবই অন্যায়জনক কাজ হয়েছে। তবে আমরা সবাই চাই বাংলায় টেবিল টেনিসের প্রসার। সেই লক্ষ্যেই সবাইকে সংঘবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সুব্রত রায়ের অভিযোগ, শিলিগুড়িতে আয়োজিত রাজ্য ও আন্তঃ জেলা টেবিল টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে উত্তর ২৪ পরগনা টেবিল টেনিসের জনাকয়েক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অসভ্যতা বেশি করেছেন ঋষিকেষ ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। যিনি দলের কোচ বা ম্যানেজার নন। তার উস্কানিতেই সেদিন ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে । তার বিরুদ্ধে আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানাবো। সেদিনের ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।"
আজ প্রতিযোগিতা শেষ দিনে অনুর্ধ্ব ১৫ মেয়েদের দলগত বিভাগে সোনা জিতেছে শিলিগুড়ি। ফাইনালে তারা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে কলকাতাকে। শিলিগুড়ির প্রতীতি পাল ৩-১ গেমে হারিয়েছে রঞ্জিনী সাহাকে আর শ্রেয়া ধর ৩-০ গেমে হারিয়েছে দেবাংশী চক্রবর্তীকে।পরে ডাবলসে দেবাংশী-রঞ্জিনীর বিরুদ্ধে শ্রেয়া-প্রতীতি ৩-১ গেমে জয়ে শিলিগুড়ির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।