যাঁদের এক ঝলক দেখতে রাত জেগে টিকিটের লাইন, সেই সোনালি দিনের কলকাতা ফুটবল

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 51 m ago
প্রতিনিধিত্বমূলক  AI ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক AI ছবি
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান স্পোর্টিং—কলকাতার এই তিন প্রধান বরাবরই আমজনতার ক্লাব। এই ক্লাবগুলির খেলা দেখতে মাঠে দর্শক আসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কলকাতা ফুটবলের ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল, যখন শুধু ক্লাবের নামেই নয়, নির্দিষ্ট কিছু ফুটবলারের টানেই হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতেন ময়দানে। এমনও হয়েছে, অন্য দলের সমর্থক হয়েও কেউ এসেছেন শুধু একজন বিশেষ ফুটবলারের খেলা দেখতে।

পঞ্চাশ, ষাট, সত্তরের সেই দিনগুলি আজ ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাসের পাতায় কয়েকজন ফুটবলারের নাম যেন আলাদা অক্ষরে লেখা। তাঁদের পায়ের জাদুতে গ্যালারি পূর্ণ হয়েছে, মাঠের বাইরেও ভিড় জমেছে, ডার্বির টিকিটের জন্য রাত জেগে লাইন পড়েছে। কলকাতা ফুটবল তখন শুধু একটি খেলা ছিল না—ছিল শহরের জীবনেরই অংশ।
 

পিকে ব্যানার্জী ও চুনি গোস্বামী,পিকে ব্যানার্জি সহ তুলসীদাস বলরাম

তারকা মানেই তখন ছিল মাঠে যাওয়ার কারণ

ছয়ের দশকের গোড়ার দিক, কিংবা তারও আগে পঞ্চাশের দশকে ভারতীয় ফুটবলে এমন কিছু নাম ছিল, যাঁদের খেলা দেখার জন্য আলাদা দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। বড়দের মুখে শোনা সেই নামগুলির মধ্যে ছিলেন সামাদ, গোষ্ঠ পাল, আপ্পারাও, শৈলেন মান্না, আমেদ খান।

তাঁরা যে ক্লাবের হয়েই খেলুন না কেন, তাঁদের দেখতে মাঠে আসতেন ফুটবলপ্রেমীরা। সমর্থনের রং তখন অনেক সময় গৌণ হয়ে যেত, বড় হয়ে উঠত ফুটবলারের দক্ষতা।

পঞ্চাশের দশকের শেষ থেকে ষাটের দশকের শুরুতে দুই প্রধানের জনপ্রিয়তার কেন্দ্রে ছিলেন আরও এক ঝাঁক তারকা। মোহনবাগানে চুনী গোস্বামী, জার্নেল সিং, কেম্পিয়া, রহমান; ইস্টবেঙ্গলে রাম বাহাদুর, বলরাম, অরুণ ঘোষ। দুই প্রধানের লড়াইয়ে তাঁরাই ছিলেন প্রথম সারির নায়ক। দল জেতাবে কে, মাঠে সেই ফুটবলারকে দেখতে কেমন ভিড় হবে—এই দুই প্রশ্ন তখন যেন একই সূত্রে বাঁধা ছিল।

গোল মানেই জনপ্রিয়তা

ফুটবলে শেষ কথা গোল। আর যে ফুটবলার গোল করতে পারেন, তাঁর প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।ইস্টবেঙ্গলের মোনা দত্ত ছিলেন তেমনই একজন। পরে সেই তালিকায় এসেছেন অসীম মৌলিক, অশোক চ্যাটার্জি, শ্যাম থাপা, চিমা, জামশেদ নাসিরি, শিশির ঘোষ, বিজয়ন, বাইচুং ভুটিয়ার মতো গোলশিকারিরা।

কিন্তু দর্শকদের হৃদয়ে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা, যাঁরা শুধু গোল করেননি—গোল করিয়েছেনও। আক্রমণ তৈরি করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন, আবার নিজেরাও জাল কাঁপিয়েছেন।

সামাদ, আমেদ খান, চুনী গোস্বামী, বলরাম, সুকুমার সমাজপতি, পরিমল দে, মহম্মদ হাবিব, মজিদ বাসকার, সুভাষ ভৌমিক, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, কৃষ্ণা দে—এই ধারার ফুটবলারদের নাম তাই কলকাতা ময়দানের ইতিহাসে আলাদা করে উচ্চারিত হয়।

মাঝমাঠ থেকেও যাঁরা ম্যাচের গল্প লিখতেন


শুধু গোলদাতারাই যে দর্শকদের টানতেন, তা নয়। মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে যাঁরা গোটা দলকে পরিচালনা করতেন, আক্রমণের রাস্তা তৈরি করতেন, আবার নিজেরাও গোল করতেন—তাঁদের জনপ্রিয়তাও ছিল আকাশছোঁয়া।

গৌতম সরকার, সমরেশ চৌধুরী, প্রশান্ত ব্যানার্জি, প্রসূন ব্যানার্জি এবং তাঁদেরও আগে রাম বাহাদুর—মাঝমাঠ থেকে খেলার ছন্দ বদলে দেওয়া সেই ফুটবলাররা ছিলেন দলের প্রাণ।

তাঁদের পায়ে বল মানেই গ্যালারিতে বাড়তি উত্তেজনা। কারণ দর্শক জানতেন, এই ফুটবলারদের কাছ থেকেই যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

শৈলেন মান্না ও আমেল খান সহ চুনি গোস্বামী

ডিফেন্ডাররাও ছিলেন দর্শকের নায়ক


আজকের দিনে গোলদাতার জনপ্রিয়তা নিয়ে যত কথা হয়, কলকাতা ময়দানের পুরনো দিনে রক্ষণভাগের ফুটবলাররাও সমানভাবে দর্শকের প্রিয় ছিলেন।

গোষ্ঠ পাল, শৈলেন মান্না, জার্নেল সিং, অরুণ ঘোষ, নঈমুদ্দিন, চন্দ্রেশ্বর প্রসাদ, সুধীর কর্মকার, সুব্রত ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য—এঁরা প্রত্যেকেই প্রমাণ করেছিলেন, গোল বাঁচানোও দর্শককে উত্তেজিত করতে পারে।

একটি নিখুঁত ট্যাকল, বিপজ্জনক আক্রমণ থামিয়ে দেওয়া কিংবা শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত গোল বাঁচানো—এসব মুহূর্তেও গ্যালারি ফেটে পড়ত।আর গোলরক্ষকদের কথাই বা বাদ যায় কী করে? পিটার থঙ্গরাজ, করিম মুস্তাফা, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়—তাঁদের খেলা দেখতেও দর্শক মাঠে আসতেন।

ইস্টবেঙ্গলের তারকারা যেন ছিলেন আলাদা আকর্ষণ

ময়দানে দর্শক টানার প্রশ্নে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের একটা সময় বিশেষ প্রভাব ছিল বলেই মনে করেন প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরা।

পঞ্চাশের দশকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন আমেদ খান। তাঁর পর ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২—টানা ছয় বছর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন রাম বাহাদুর ও বলরাম।

১৯৬৩ সালে চাকরির কারণে বলরামকে ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে হয়। তাঁর জায়গায় রাম বাহাদুরের পাশে আক্রমণের বড় ভরসা হয়ে ওঠেন সুকুমার সমাজপতি। ১৯৬১ সাল থেকেই সমাজপতি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রিয়। বলরামের অনুপস্থিতিতে তিনিই হয়ে ওঠেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।রাইট উইং দিয়ে তাঁর দৌড়, বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং গোল করানোর ক্ষমতা ময়দানে তৈরি করেছিল আলাদা উন্মাদনা।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫—সমাজপতির পাশাপাশি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন অসীম মৌলিক। তাঁর পায়ে বল পড়লেই যেন বিপদ। গোলের প্রত্যাশায় তখন গ্যালারি অপেক্ষা করত তাঁর প্রতিটি মুভের জন্য।

পরিমল দে থেকে নঈমুদ্দিন—নতুন নায়কের আবির্ভাব

১৯৬৬ সালে অসীম মৌলিক ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পর সেই শূন্যতা পূরণ করেন পরিমল দে। গোল করা এবং গোল করানো—দুই ক্ষেত্রেই তিনি হয়ে ওঠেন সমর্থকদের অন্যতম প্রিয় মুখ।

দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন ইস্টবেঙ্গল মাঠে। শুধু দলের খেলা নয়, পরিমল দে কী করেন, সেটাও হয়ে উঠত ম্যাচ দেখার অন্যতম কারণ।

সেই ১৯৬৬ সালেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন স্টপার সৈয়দ নঈমুদ্দিন। রক্ষণে তাঁর দৃঢ়তা তাঁকে দ্রুতই আলাদা করে দেয়। প্রথম মরশুমেই ভেটারেন্স ক্লাবের বিচারে তিনি নির্বাচিত হন মরশুমের সেরা ফুটবলার।

তবে ইস্টবেঙ্গলে তাঁর অধ্যায় ছিল সংক্ষিপ্ত। দু'বছর পর তিনি মোহনবাগানে যোগ দেন। ফলে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পায়নি।পরিমল দে ছিলেন অন্যরকম। ১৯৭১ সালে ইস্টবেঙ্গল তাঁকে না রাখলেও সমর্থকদের হৃদয় থেকে তিনি হারিয়ে যাননি।
 

 
অরুণ ঘোষ ও মোহাম্মদ হাবিব

সুধীর-হাবিবের সময়ে আবার জেগে উঠল ময়দান

১৯৬৯ সালে তরুণ সুধীর কর্মকার ইস্টবেঙ্গলে এসে একঝাঁক তারকার মাঝেও নিজের জায়গা করে নেন। ১৯৭০ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনালে পিয়ারলেস ক্লাবের বিরুদ্ধে তাঁর অসাধারণ লড়াই আজও প্রবীণ দর্শকদের স্মৃতিতে।

বড় ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে শুধু ইস্টবেঙ্গলের নয়, ভারতীয় ফুটবলেরও অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারে পরিণত করেছিল।আর ১৯৭০ থেকে ১৯৮০—এই দশক যেন ছিল তারকার মিছিল।

হাবিব, সুধীর কর্মকার, সুভাষ ভৌমিক, সমরেশ চৌধুরী, গৌতম সরকার, শ্যাম থাপা, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, সুব্রত ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, মজিদ বাসকার, জামশেদ নাসিরি, প্রসূন ব্যানার্জি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, চিমা ওকেরি, কৃষ্ণা দে, মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু—আরও কত নাম!

তাঁদের খেলা দেখার জন্য হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী গ্যালারি ভরিয়ে তুলতেন। গ্যালারি ছাপিয়ে ময়দানের রাস্তাতেও দাঁড়িয়ে থাকত মানুষের ঢল। অনেকেই দূর থেকে উঁকিঝুঁকি মেরে প্রিয় ফুটবলারের এক ঝলক দেখার চেষ্টা করতেন।

আর ডার্বি?


ডার্বি ছিল সম্পূর্ণ অন্য জগত। রাত জেগে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানো, ভোরের অপেক্ষা, গ্যালারিতে জায়গা পাওয়ার লড়াই—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল প্রিয় ফুটবলারকে চোখের সামনে দেখার আকাঙ্ক্ষা।

মহমেডান স্পোর্টিংও ছিল তারকায় ভরা

কলকাতা ফুটবলের ইতিহাস লিখতে গেলে মহমেডান স্পোর্টিংকে বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের দল ছিল প্রবল শক্তিশালী। হাফিজ, রশিদ, রহমত, লতিফ, ইজমাইল, ওমর, সালাম, মুস্তাক আহমেদ, হামিদ হোসেন, আমেদ হোসেন, আবিদ করিম—একাধিক তারকা ফুটবলারের উপস্থিতিতে গড়ে উঠেছিল দলের এক গৌরবময় অধ্যায়।

তাঁদের সময়ে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ম্যাচ মানেই ছিল আলাদা উত্তেজনা। তিন প্রধানের লড়াইয়ে মহমেডান তখন ছিল সমান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও সুব্রত ভট্টাচার্য

তিন প্রধানের বাইরেও ছিল দর্শক টানার নায়ক

কলকাতা ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—শুধু মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল বা মহমেডান নয়, অন্য দলের জার্সিতেও এমন কিছু ফুটবলার ছিলেন যাঁদের জন্য মাঠে ভিড় বাড়ত।ইস্টার্ন রেল ছিল তার অন্যতম উদাহরণ। এই দলের হয়েই বড় হয়ে উঠেছিলেন প্রদীপ ‘পিকে’ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিন প্রধানের বিরুদ্ধে ইস্টার্ন রেলের ম্যাচ হলে গ্যালারিতে আলাদা উত্তেজনা তৈরি হতো। পিকে শুধু ম্যাচ খেলতেন না, ম্যাচকে বড় করে তুলতেন। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি তিন প্রধানের বিরুদ্ধে আতঙ্কের নাম ছিলেন। বহুবার বড় দলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছেন তিনি।

১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল এমনই যে, পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে তিন প্রধানের সমর্থকরাও মাঠে আসতেন।

বিএনআরের আপ্পালারাজু ও অরুণ ঘোষ

বিএনআর-এর আপ্পালারাজুও ছিলেন বড় দলগুলির জন্য দুঃস্বপ্নের নাম। ১৯৫৯, ১৯৬০ ও ১৯৬৩—তিনবার বিএনআরের হয়ে কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি।

তিন প্রধানের বিরুদ্ধে তাঁর গোলের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। বড় দলের সমর্থকদের কাছে আপ্পালারাজুর নামই ছিল সতর্কবার্তা। তাঁকে দেখতেও মাঠে ভিড় করতেন দর্শকরা।

আর বিএনআরের অরুণ ঘোষ?

প্রায় আট-নয় বছর ধরে তিনি ছিলেন দলের রক্ষণের শেষ প্রাচীর। বিএনআরকে হারাতে গেলে অরুণ ঘোষকে টপকাতেই হবে—সেই সময় এটাই যেন ছিল ময়দানের অলিখিত নিয়ম।

চুনী গোস্বামী থেকে অসীম মৌলিক, অশোক চ্যাটার্জি, পরিমল দে, হাবিব, শ্যাম থাপা—বড় বড় তারকারাও বিভিন্ন সময়ে সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

সেই ময়দান আজ স্মৃতির অ্যালবামে

একসময় কলকাতা ময়দানের ফুটবল মানেই ছিল মানুষের ঢল। ফুটবলার ছিলেন শুধু দলের সদস্য নন—তাঁরা ছিলেন জনতার নায়ক।একজনের গোলের জন্য, একজনের পাসের জন্য, কারও ট্যাকলের জন্য, কারও অসাধারণ সেভের জন্য হাজার হাজার মানুষ মাঠে আসতেন। কোনও কোনও ফুটবলার এমন জনপ্রিয়তা পেতেন যে ক্লাবের পরিচয়ের সীমানাও পেরিয়ে যেত তাঁদের খ্যাতি।

সেই সময়ে কলকাতার ফুটবল ছিল তারকায় ভরা। আর সেই তারকারাই তৈরি করেছিলেন ময়দানের নিজস্ব সংস্কৃতি—যেখানে ফুটবল ছিল আবেগ, ফুটবলার ছিলেন নায়ক, আর গ্যালারি ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

আজ সেই ভিড় নেই। সেই রাতজাগা টিকিটের লাইন নেই। র‍্যাম্পার্টে দাঁড়িয়ে এক ঝলক প্রিয় ফুটবলারকে দেখার সেই উন্মাদনাও অনেকটাই স্মৃতি।তবু কলকাতা ময়দানের ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় খুললেই দেখা যায়—সামাদ থেকে চুনী, আমেদ খান থেকে বলরাম, সমাজপতি থেকে পরিমল, হাবিব থেকে সুরজিৎ, পিকে থেকে সুধীর—কত নক্ষত্র একদিন এই মাঠকে আলোয় ভরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁদের জন্যই একসময় উপচে পড়ত কলকাতা ময়দান।