গঙ্গার জলেই মিলল দুই বাংলা! ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতির সেতু গড়ে মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের দীর্ঘতম সাঁতার প্রতিযোগিতা
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 7 h ago
গঙ্গার জলেই মিলল দুই বাংলা! ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতির সেতু গড়ে মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের দীর্ঘতম সাঁতার প্রতিযোগিতা
তরুণ নন্দী, কলকাতা
রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ মুর্শিদাবাদ যেন এক অন্য ছবির সাক্ষী রইল। আলো আঁধারির মধ্যেই আহিরণ ব্যারেজের গঙ্গার ঘাটে হিন্দু-মুসলিম সাঁতারুরা একসঙ্গে ধাঁপ দিলেন জলে। নৌকায় চেপে গঙ্গার বুকে পৌঁছেই একে একে জলে ঝাঁপ দিলেন ২৭ জন নানা রাজ্য সহ বাংলাদেশের সাঁতারুরা। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার আহিরণ ঘাট থেকে শুরু হয়ে বহরমপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ৮১ কিলোমিটারের এই বিশ্ব সাঁতারের মানচিত্রে দীর্ঘতম পথ বলেই মনে করা হয়।
এবছরের এই সাঁতার প্রতিযোগিতা নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে পরেছে বলে। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিযোগীদের পাশাপাশি সাঁতারের মত এই কঠিন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের ৯ জন প্রতিনিধি।
মহারাষ্ট্রের মুম্বই থেকে আসা ১৩ ও ১৪ বছর বয়সী তিন খুদে সাঁতারু এবছর ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। গঙ্গার উত্তাল ঢেউয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মুসলিম সাঁতারুসহ সকল ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা নদী পথে চললেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। যা ধর্ম, দেশ ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রীড়াজগতে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করল।
আয়োজকদের আতিথেয়তা ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় আপ্লুত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীরা। বাংলাদেশ থেকে আসা সাঁতারু শ্রীপৎতুল্লা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদের এই উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
এখানকার আয়োজকদের সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আমরা খুশি। এই ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে জানালেন তিনি। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গর্বের সঙ্গে জানালেন, এখানে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে সত্যিই অসাধারণ লাগছে।
বাংলাদেশের মুসলিম প্রতিযোগী
আয়োজক কমিটির মতে, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা আসলে সাঁতারুদের মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বলা চলে। দূরপাল্লার এই গঙ্গায় সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক স্তরে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।
যা প্রতিযোগী সাঁতারুদের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ভোর শুরু হতে না হতেই গঙ্গার বুকে যেন ইতিহাস গড়ল মুর্শিদাবাদ। আয়োজকরা প্রমাণ করলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের টান সীমানার চেয়েও অনেক শক্তিশালী।