১২ মাসের প্রস্তুতিতেই জাতীয় রেকর্ড সাহানীর! ৩ সোনা জিতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেতে চলেছে বালুরঘাটের কিশোরী
তরুণ নন্দী / কলকাতা
প্রস্তুতি মাত্র ১২ মাস। আর ফলাফল পাওয়ার লিফ্টিংয়ে তিনটে সোনা জয় বালুরঘাটের সাহানীর। কথায় বলে, সংকল্প যদি দৃঢ় থাকে তবে লক্ষ্যে পৌঁছানো তখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। ঠিক সেটাই করে দেখাল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের ছাত্রী সাহানী দাস। জাতীয় স্তরের পাওয়ারলিফ্টিংয়ের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে সে। মাত্র এক বছরের কঠোর প্রস্তুতি, আর তাতেই একেবারে বাজিমাত করে দিয়েছে সাহানী। জাতীয় প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে তিন-তিনটি সোনা চলে এল তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম হলে তখন চলছে একের পর এক ওজন তোলার লড়াই। প্রতিযোগিরা তো মুখিয়ে রয়েছেন। আর সেখানে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড কিংবা বিহারের মতো শক্তিশালী রাজ্যের পোড় খাওয়া প্রতিযোগিদের একেবারে পেছনে ফেলে সোনা জিতে নিল সাহানী।
সাহানী দাস
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী যেন সাব-জুনিয়র ৬৯ কেজি বিভাগে নেমে ঝড় তুলল। বেঞ্চ প্রেস, ডেডলিফ্ট এবং ফুল পাওয়ারলিফ্টিং তিনটি বিভাগেই নানা রাজ্যের শক্তপোক্ত প্রতিপক্ষদের টেক্কা দিয়ে ছিনিয়ে নিল সোনা।
জাতীয় স্তরে এই মাইলস্টোন ছোঁয়ার পর সেই অনুভূতি জানাতে গিয়ে সাহানী আবেগপ্রবণ হয়ে জানাল, তিনটি সোনা এক সঙ্গে জিতে নিতে পারব তা সত্যি ভাবিনি। তবে সোনা জিততে পেরে খুব ভাল লাগছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না সাহানী। তার চোখ এখন আরও উঁচুতে। বলা ভালো, জাতীয় মঞ্চ জয়ের পরেই সে অর্জন করে ফেলেছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার টিকিট। সাহানী তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানাল, আমার এখন একটাই লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের হয়ে পদক আনা।
মেয়ের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস পরিবার থেকে গোটা এলাকায়। এলাকাজুড়ে এই সোনার মেয়ের জন্য উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাবা সন্তু দাস গর্বিত গলায় বললেন, মাত্র ১২ মাসের প্রস্তুতিতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় তিন-তিনটি সোনা জেতা সত্যিই বড় গর্বের। বলতে পারেন, মেয়ে আমাদের স্বপ্নকে নতুন ডানা দিয়েছে।
প্রতিযোগিতা শেষ করে বাড়ি ফিরতেই সাহানীকে নিয়ে যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সংবর্ধনার জোয়ারে ভাসছে বালুরঘাটের এই সোনার মেয়েটি। চারপাশের মানুষের এত ভালবাসায় আবেগপ্রবণ হয়ে সাহানীর বার্তা, নিজের এই জয়কে সে উৎসর্গ করতে চায় অঞ্চলের অন্য মেয়েদেরও।
তার স্পষ্ট কথা, আমি চাই উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের আরও মেয়েরা এগিয়ে আসুক। আগামী দিনে সেইসব মেয়েরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে সাফল্যের নতুন নজির গড়ে। দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাহানীর এই উত্থান নতুন ইতিহাস লিখতে পারে কিনা এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রীড়ামহল।