চাঁচলে ঐতিহাসিক ঈদে মিলাদুন্নবী শোভাযাত্রা! হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মুখরিত নূরী জামে মসজিদ

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
চাঁচলে ঐতিহাসিক ঈদে মিলাদুন্নবী শোভাযাত্রা! হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মুখরিত নূরী জামে মসজিদ
চাঁচলে ঐতিহাসিক ঈদে মিলাদুন্নবী শোভাযাত্রা! হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মুখরিত নূরী জামে মসজিদ
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

ধর্মীয় আবেগে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির আবহে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হলো মালদহের চাঁচলে। প্রতিবছরের ধারা বজায় রেখে চাঁচল নূরী জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগ আর তানযীমে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পরিচালনায় আয়োজিত হলো এক সুবিশাল ইসলাম ধর্মীয় শোভাযাত্রা। বুধবার চাঁচলে এই সুবিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া জনস্রোত দেখে খুশি মসজিদ কমিটি।
 
বুধবার চাঁচল শহরের আদর্শপল্লির নূরী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয়। এরপর একে একে খেজুরিয়া মোড়, শান্তিমোড়, দুর্গাবাড়ি মোড়, বারোগাছিয়া, তরলতলা ও নেতাজি মোড় হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত এলাকা পরিক্রমা করে শোভাযাত্রাটি সমাপ্ত হয় পুনরায় মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে।
 
চাঁচল নূরী জামে মসজিদ কমিটি
 
শোভাযাত্রার একেবারে সামনের দিকে উপস্থিত ছিলেন চাঁচলের এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার প্রতিষ্ঠাতা তথা চাঁচল মহকুমা তানযীম কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম মিসবাহী, নূরী জামে মসজিদ কমিটির সম্পাদক মোহাম্মদ মতিউর রহমান সহ অঞ্চলের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
 
শুধু চাঁচলেই নয়,  মালদহ জেলার নানা প্রান্তে দেখা গিয়েছে এই উদযাপনের আবহ। বিশেষ করে মহকুমার কলিগ্রাম, চন্দ্রপাড়া, ডাহুকা, কনুয়া সহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষেরা ভোর হতেই ভিড় জমালেন চাঁচলে। জানা গেছে, বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্যরাও সুশৃঙ্খলভাবে যোগ দেন এতে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বনবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এদিনের শোভাযাত্রায় প্রায় আট হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।
 
ঈদে মিলাদুন্নবী শোভাযাত্রা
 
এত বড় জনসমাগমকে সুশৃঙ্খল রূপ দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঁটসাঁট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পুরো রাস্তাজুড়ে মোতায়েন ছিলেন।
 
শোভাযাত্রা শেষে নূরী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা থেকে বক্তারা শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন, আদর্শ, মানবতা ও শান্তির বার্তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেন শ্রোতাদের কাছে। আলোচনা শেষে দেশ ও রাজ্যের শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামগ্রিক মঙ্গল কামনা করে এক বিশেষ মুনাজাত ও দোয়া পাঠ করা হয়। কর্মসূচির চূড়ান্ত সমাপ্ত ঘটে আপ্যায়নের মাধ্যমে। অনুষ্ঠান শেষে কয়েক হাজার মানুষের জন্য সিন্নিরও ব্যবস্থা করা হয়।


শেহতীয়া খবৰ