বাংলার মেয়ে নাসিফা খাতুন চিনের মাটিতে ওড়ালেন ভারতের পতাকা! অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতে গড়লেন ইতিহাস

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
নাসিফা খাতুন
নাসিফা খাতুন
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে একেবারে চিনের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকিং-এ ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন নাসিফা খাতুন। তাঁর এই চলার পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। মনের জোরে সব প্রতিকূলতা ঠেলে দিয়ে নাফিসা খাতুন গোল্ড মেডেল জিতে অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন। এশিয়ার সেরা হয়ে দেশে ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির এই লড়াকু মেয়েটি।
 
কুলপি ব্লকের বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গাফলা গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে নাফিসার জন্ম। সম্প্রতি চিনে অনুষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৪×৪০০ মিটার রিলে দৌড়ে নাসিফা দেশকে এনে দিয়েছেন সোনা। চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলার এই মেয়েটির সাফল্যের খবর জানার পর আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি তাঁর নিজের গ্রামের বাসিন্দারা।
 
নাফিসা খাতুন তাঁর পরিবারের সঙ্গে
 
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবা শফিউল্লা জমাদার পেশায় কৃষক হলেও একসময় কাবাডির ময়দান তাঁর নাম ছিল। মা সিদ্দিকা খাতুন একজন আশা কর্মী। তিনিও  কলেজ জীবনে হাইজাম্প ও দৌড়ে জিতে নিয়েছিলেন একাধিক পদক। নিজেদের অধরা স্বপ্নকে মেয়ের মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত করতে পেরে খুবই খুশি এই দম্পতি। লক্ষ্যপূরণ করতেই হবে তাই অভাবের সংসার হলেও মেয়ের অনুশীলনে কখনও খামতি পড়তে দেননি তাঁরা।
 
নাফিসার পড়াশোনার অধ্যায় কাকদ্বীপ বামানগর হাইস্কুল দিয়ে। পরে খেলাধুলার সুবিধার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীতে করঞ্জলী কালিকা গার্লস স্কুলে ভর্তি হওয়া। আর ওই স্কুলের পড়া থেকেই শুরু হয় তাঁর অ্যাথলেটিক্সের আনুষ্ঠানিক পথচলা। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করে উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ‘সোনার মেয়ে’ নাফিসা। পড়াশোনা আর খেলাধূলা, দুটোর ভারসাম্য রেখেই আন্তর্জাতিক মানের একজন অ্যাথলিট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি।
 
নাফিসা খাতুন  তাঁকে প্রদান করা সন্মাননা গ্রহণের মুহূর্তে
 
চিন থেকে স্বর্ণপদক গলায় ঝুলিয়ে দেশে ফেরার পর নাফিসাকে নিয়ে মেতে গেল গোটা কুলপি। তাঁর বাড়িতে ক্রীড়াপ্রেমী সহ এলাকাবাসীর উপচে পড়া ভিড় যেন গোটা বাড়িটাকেই উজ্জ্বল করে তুলেছিল। নাফিসা খাতুনের এই ঐতিহাসিক জয় আসলে তাঁর কঠোর অধ্যবসায়ের চিহ্ন।
 
অ্যাথলেটিক্স বিশ্বের দরবারে ভারতের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরে নাফিসা প্রমাণ করে ছাড়লেন, ইচ্ছেশক্তি আর লড়াই করার মানসিকতা থাকলে যত প্রতিকূলতা থাকুক না কেন গ্রামের মাটি থেকেও বিশ্বজয়ের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।


শেহতীয়া খবৰ