দু’হাতে বল করতে পারা হাওড়ার স্পিনার কৌশিক মাইতিকে নিয়ে ইডেনে ভারতীয় দলের নেটে আলোড়ন

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 Months ago
হাওড়ার স্পিনার কৌশিক মাইতি
হাওড়ার স্পিনার কৌশিক মাইতি
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী :

দু'হাতে বল করতে পারা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের স্পিনার যিনি হাওড়ার ছেলে, সেই কৌশিক মাইতিকে ইডেনে ভারতীয় খেলোয়ারদের নেটে স্পিন বোলিং এ প্র্যাকটিস করার জন্য ইডেনে কোচ গৌতম গম্ভীর কৌশিক মাইতিকে নেটে ডেকেছিলেন। প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের বল খেলতে ইডেনে সমস্যায় পড়ার জন্য ছিল এই স্পেশাল প্র্যাক্টিস।  তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে সাই সুদর্শন, ধ্রুব জুরেলদের স্পিন বল খেলার দক্ষতায় শান দিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তাই মঙ্গলবার ভারতীয় দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে ডেকে নিয়েছিলেন বাংলার স্পিনার কৌশিককে। যাঁর বিশেষত্ব দু’হাতে বল করতে পারা।

ভারতীয় দলের নেটে গতকাল মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ  বল করেছেন কৌশিক। অনুশীলনের ফাঁকে কৌশিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও পেয়েছেন তার প্রিয় ক্রিকেটার রবীন্দ্র জাডেজার কাছ থেকে। এদিন বাংলার এই কৃতি ক্রিকেটারকে ভারতীয় দলের বোলিং কোচ মর্নি মরকেল আলাদা করে পরামর্শ দেননি। কৌশিক বল করেছেন নিজের মতো  করেই। তিনি নেটে বাঁহাতি ব্যাটারদের অফস্পিন বল করেছেন আর ডানহাতি ব্যাটারদের বাঁ হাতে বল করেছেন। ভারতীয় দলের প্রতিটি ক্রিকেটার এবং কোচ গম্ভির এবং বোলিং কোচ মরকেল অবাক হয়েছেন তার বোলিং দেখে। ভারতীয় খেলোয়ারদের বল করতে পেরে কৌশিকও খুবই উচ্ছসিত হয়ে বলেছেন,  "এখানে বোলিং করতে আসার জন্য সিএবির কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ভারতীয় দলের ফিল্ডিং অনুশীলনের জন্য যে কয়েক জন স্থানীয় ক্রিকেটারের নাম সিএবি দিয়েছিল তার মধ্যে  আমাকে ডাকা হয়। তবে মঙ্গলবার প্রথম ভারতীয় দলের নেটে বল করলাম। এর আগেও আমি আইপিএলের বিভিন্ন দলের নেটে বল করার সুযোগ পেয়েছি। গম্ভীর থেকে বোলিং কোচ  মরকেল আমাকে কোনও নির্দেশ দেননি। যে ভাবে অফ স্পিন বল করি সেই ভাবেই ভারতীয় দলের নেটে বল করেছি সাই সুদর্শন, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবীন্দ্র জাডেজা, দেবদত্ত পাড়িক্কলকে বল করেছি  আর ধ্রব জুরেলকে বাঁ হাতে বল করেছি।’’

কৌশিক বিশেষ করে তার প্রিয় ক্রিকেটার ক্রিকেটার জাডেজাকে বল করতে পেরে আরো উচ্ছ্বসিত। কৌশিক বলেছেন, ‘‘আমার প্রিয় ক্রিকেটারকে বল করতে পেরে আজ আমার স্বপ্ন সত্যি হল। কিভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরো ভালো বল করতে পারা যায় এই পরামর্শ আমি জাদেজার কাছে চেয়েছিলাম।
আমার বলে ব্যাট করার পর জাড্ডু ভাই কিছু পরামর্শ দিলেন। আমার স্বাভাবিক লেংথ ৪ থেকে ৫ মিটার। উনি বললেন, লেংথ বাড়িয়ে ৬ থেকে ৭ মিটার করতে। বলের গতি বৃদ্ধিরও পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যাটারদের যতটা সম্ভব খেলার সময় কম দেওয়ার কথা বলেছেন।’’

ভারতীয় দলের সাজঘরে থাকতে পেরে কৌশিক অভিভূত। এ নিয়ে কৌশিক বললেন , ‘‘আমি এখানে আসতে পেরে খুবই রোমাঞ্চিত। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। সকলের খুব সাহায্য পেয়েছি। সকলে উৎসাহ দিয়েছেন। এটা আমার কাছে বড় পাওনা। ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের সদস্য হতে চাই। এটাই স্বপ্ন।’’

কৌশিক বলেছেন, ‘‘একদম ছোটবেলা থেকে  সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খেলা শিখেছি। উনিও উৎসাহ দিয়েছেন দু’হাতে বল করতে।’’

ছাত্রকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সম্বরণও। ছাত্রকে নিয়ে সম্ভাবন বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেছেন, ‘‘কৌশিক প্রথম যখন আমার আকাডেমিতে আসে, তখন ওর বয়স ছয়। খুব দুঃস্থ পরিবারের ছেলে। ওর বাবা নিয়ে এসেছিলেন। খুব প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বাংলার হয়ে সাদা বলের ক্রিকেট খেলেছে। শুধু ভাল স্পিনারই নয়, এই মুহূর্তে বাংলার অন্যতম সেরা ফিল্ডারও কৌশিক। দু’হাতে বল করতে পারে। এটা ওর সহজাত। আমি মনে করি আগামী দিনে ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।"

এবার হয়তো কৌশিককে আইপিএল খেলতে দেখা যেতে পারে। কারণ কৌশিক এবার রাজস্থান রয়্যালসে ট্রায়াল দিয়েছেন। ২০২৩ সালের বিজয় হজারে ট্রফিতে ১১ উইকেট নেওয়া স্পিনার জানেন না আইপিএলের দরজা খুলবে কিনা। তবে একটা সুযোগ হয়তো রাজস্থান রয়্যালসে খেলার পেতেও পারেন কৌশিক। কারণ তার প্রিয় ক্রিকেটার যে এবার রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি গায়ে খেলবেন। তার সার্টিফিকেটটাই হয়তো কৌশিকের কাজে দেবে।