বিশ্বরেকর্ড গড়া শিল্পীর নতুন চমক, মেসির ৩৫ ফুট প্রতিকৃতি এঁকে ফের আলোচনায় বেলুড়ের প্রীতম

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 12 h ago
বিশ্বরেকর্ড গড়া শিল্পীর নতুন চমক, মেসির ৩৫ ফুট প্রতিকৃতি এঁকে ফের আলোচনায় বেলুড়ের প্রীতম
বিশ্বরেকর্ড গড়া শিল্পীর নতুন চমক, মেসির ৩৫ ফুট প্রতিকৃতি এঁকে ফের আলোচনায় বেলুড়ের প্রীতম
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

শিল্পের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর আগেই ছিল। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করলেন হাওড়ার বেলুড়ের তরুণ শিল্পী প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের প্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে তিনি এঁকেছেন ৩৫ ফুট লম্বা ও ২০ ফুট চওড়া এক বিশাল প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহে তাঁর এই শিল্পকর্ম এখন ফুটবলপ্রেমী ও শিল্পানুরাগীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই ছবি। অনেকেই একে শুধু একটি প্রতিকৃতি নয়, বরং একজন শিল্পীর আবেগ, নিষ্ঠা এবং প্রিয় খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধার অসাধারণ প্রকাশ বলেই মনে করছেন।
 
বর্তমানে ইংল্যান্ডের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার অ্যানিমেশন, আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন প্রীতম। হাওড়ার লিলুয়া ডন বস্কো স্কুলের প্রাক্তনী এই তরুণ ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিদেশের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মাটি এবং ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ অটুট। বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করতে এক মাসের ছুটি নিয়ে তিনি নিজের বাড়ি বালিতে ফিরে এসেছেন। আর সেই সময়কেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন।
 
প্রীতম জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক। ফুটবল মাঠে মেসির অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই তাঁকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তাই বহুদিন ধরেই মেসিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই ভাবনা থেকেই ৩৫ ফুটের এই বিশাল প্রতিকৃতি তৈরির উদ্যোগ।
 
বিশাল পলি-কটন কাপড়ের উপর বিশেষ ওয়েদার-প্রুফ রং ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে এই শিল্পসাধনা। তবে কাজটি মোটেই সহজ ছিল না। বর্ষার বৃষ্টি বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও আঁকা অংশ বৃষ্টির জলে মুছে গিয়েছে, কখনও আবার নতুন করে রং করতে হয়েছে। তবুও দমে যাননি প্রীতম। ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা দিয়েই শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করেছেন তাঁর স্বপ্নের এই কাজ।
 
শিল্পের প্রতি এই একাগ্রতা অবশ্য তাঁর রক্তেই রয়েছে। প্রীতমের বাবা চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সুপরিচিত ভাস্কর্য শিল্পী। ছোটবেলায় বাবার কাছেই শিল্পচর্চার হাতেখড়ি। সেই থেকেই আঁকাআঁকি ও সৃজনশীল কাজের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। পরবর্তীকালে সেই প্রতিভাই তাঁকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি এনে দেয়।
 
এটি প্রীতমের প্রথম বড় সাফল্য নয়। ২০২২ সালে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ২৮ ফুট দীর্ঘ প্রতিকৃতি এঁকে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। সেই কৃতিত্ব তাঁকে দেশজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। এছাড়াও বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের একটি বিশালাকৃতির প্রতিকৃতি এঁকে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তাঁর সেই শিল্পকর্ম এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, স্বয়ং শাহরুখ খান সেটি নিজের সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তটি আজও প্রীতমের শিল্পীজীবনের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।
 
এবার মেসির প্রতিকৃতির মাধ্যমে আবারও তিনি প্রমাণ করলেন, শিল্প কেবল রং-তুলির কাজ নয়, এটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং ভালোবাসার প্রকাশ। তাঁর আশা, বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি আবারও তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বকে মুগ্ধ করবেন এবং আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেবেন।
 
বেলুড়ের এই তরুণ শিল্পীর হাতে ফুটে ওঠা মেসির বিশাল প্রতিকৃতি তাই শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়; এটি একজন বিশ্বরেকর্ডধারী শিল্পীর নতুন উড়ানের গল্প, যেখানে ফুটবল, শিল্প এবং আবেগ এক সুতোয় গাঁথা হয়ে এক অনন্য সৃষ্টি হয়ে উঠেছে।