অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, স্পেনের সামনে মেসিদের শেষ পরীক্ষা
আটলান্টা:
বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই লড়াই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছেড়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল রক্ষণাত্মক। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে হ্যারি কেইনদের আক্রমণও বারবার আটকে যায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সামনে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সেই মুহূর্তে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে থ্রি লায়ন্স। তবে গোল খাওয়ার পর আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা।
৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ফিনিশিং ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা—আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড—আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল। ১৯৮৬ সালের মারাদোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে শুরু করে ফকল্যান্ড যুদ্ধ-পরবর্তী আবেগ—দুই দেশের ফুটবল লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এবারও শেষ হাসি হাসল আর্জেন্টিনাই। ম্যাচ শেষে কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের হাতে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) ইস্যু নিয়ে একটি ব্যানার দেখা যাওয়ায় নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে ফিফার নজর থাকতে পারে।
এদিকে এই জয়ের ফলে লিওনেল মেসির সামনে তৈরি হয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। স্পেনকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে।
এখন গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন—দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে কে জিতবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মুকুট, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।