পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো, পাঠক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও যাচাইয়ের পর রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিস জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিকাঠামোর ঘাটতি, নির্ধারিত পাঠক্রম থেকে বিচ্যুতি এবং অন্যান্য নিয়ম না মানার মতো বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, শিক্ষক ও পড়ুয়ার সংখ্যা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিয়মকানুন খতিয়ে দেখা হয়েছে।
রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে মাদ্রাসাগুলির পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের নজরে এসেছে, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি বা নির্দিষ্ট নথিপত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে বহু ‘খারিজি মাদ্রাসা’ও রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করে তাদের পরিচালনা ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার মতো জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছে। যাচাইয়ের কাজ আগামী দিনেও চলবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এই প্রসঙ্গে সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদ্রাসাগুলির প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে কি না, আর অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা যাচাইয়ের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোন প্রতিষ্ঠান স্বীকৃত ও নিয়ম মেনে চলছে এবং কোনগুলি প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পরিকাঠামো ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সরকারি ওয়েবসাইটে স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলির তালিকা প্রকাশিত রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই যাচাই ও নোটিসের পর নজর এখন পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে।