রাতভর বাজি ফাটানো যাবে না, ফানুস ওড়াতেও অনুমতি বাধ্যতামূলক! কালীপুজোর আগে কড়া নির্দেশ নবান্নের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
রাতভর বাজি ফাটানো যাবে না, ফানুস ওড়াতেও অনুমতি বাধ্যতামূলক! কালীপুজোর আগে কড়া নির্দেশ নবান্নের
রাতভর বাজি ফাটানো যাবে না, ফানুস ওড়াতেও অনুমতি বাধ্যতামূলক! কালীপুজোর আগে কড়া নির্দেশ নবান্নের

কলকাতা:

কালীপুজো ও ছটপুজোকে কেন্দ্র করে বাজি পোড়ানো নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও দুর্ঘটনা এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। রাতভর ইচ্ছেমতো বাজি ফাটানো যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ। এমনকী ফানুস বা গরম বাতাসের বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমতি ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ নতুন নির্দেশিকাগুলি জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ দমকল ও পরিবেশ দফতরের আধিকারিকরা।

কখন বাজি ফাটানো যাবে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপাবলি বা কালীপুজোয় রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। অর্থাৎ মাত্র দু'ঘণ্টার জন্য বাজি ফাটানোর অনুমতি থাকছে। অন্যদিকে, ছটপুজোয় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়মের ক্ষেত্রে কোনওরকম শিথিলতা দেখানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন।

শব্দবাজির ক্ষেত্রেও কড়া বিধি

বাজির শব্দের মাত্রা নিয়েও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল। আলোর বাজির ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রমের মতো নীরব এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না।

শুধু গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর

বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমাতে শুধুমাত্র অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানান, বাজি পোড়ানোর ফলে শুধু আশপাশের মানুষেরই ক্ষতি হয় না, যাঁরা বাজি পোড়ান তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও দূষণের শিকার হন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের উপর এর প্রভাব বেশি পড়ে।

তাঁর কথায়, নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়। তাই প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাজি তৈরি থেকে বিক্রি, পাঁচটি পর্যায়ে নজরদারি

বেআইনি বাজির কারবার বন্ধ করতে পাঁচটি পর্যায়ে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বাজি তৈরি, মজুত, পরিবহণ, বিক্রি এবং ব্যবহার— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

নিরাপদ বাজির বাজার গড়তে পুলিশ, পুরসভা ও দমকল যৌথভাবে কাজ করবে। জনবসতি থেকে দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় বাজির বাজার বসানো, দোকানগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুল্যান্সের বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেআইনি বাজি তৈরি বা বিক্রি কিংবা বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগ উঠলে বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি গ্রেফতারির মতো আইনি পদক্ষেপও করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা।

ফানুস ওড়াতেও লাগবে অনুমতি

কালীপুজোয় ফানুস ওড়ানোর প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেছে প্রশাসন। ফানুস বা গরম বাতাসের বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া তা ওড়ানো যাবে না। দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।

কালীপুজোর আগে বাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে বলেও জানিয়েছে নবান্ন। পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে অভিযোগ জানানোর নম্বর প্রকাশ করা হবে।

উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই পরিবেশদূষণ ও দুর্ঘটনা এড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।



শেহতীয়া খবৰ