বাংলায় গো-রক্ষা অভিযান জোরদার করতে উদ্যোগী VHP, দিল্লিতে বৈঠক অলোক কুমারের—শীঘ্রই জেলায় জেলায় কর্মসূচির প্রস্তুতি

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
বাংলায় গো-রক্ষা অভিযান জোরদার করতে উদ্যোগী VHP, দিল্লিতে বৈঠক অলোক কুমারের—শীঘ্রই জেলায় জেলায় কর্মসূচির প্রস্তুতি
বাংলায় গো-রক্ষা অভিযান জোরদার করতে উদ্যোগী VHP, দিল্লিতে বৈঠক অলোক কুমারের—শীঘ্রই জেলায় জেলায় কর্মসূচির প্রস্তুতি
 
কলকাতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গোহত্যা ও গরু পাচারের ঘটনা কমেছে বলে দাবি উঠলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় এসইউভি গাড়িতে করে গরু পাচারের চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনের গ্রেপ্তারির ঘটনা ফের সামনে এনেছে এই বিষয়টি। এবার বাংলায় গো-হত্যা ও গরু পাচার রুখতে আরও সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। এই লক্ষ্যেই দিল্লিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী গোসেবা সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করলেন VHP-র সর্বভারতীয় সভাপতি অলোক কুমার।
 
বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি গো-রক্ষা সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলায় সাংগঠনিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি গো-রক্ষাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল স্তরে কার্যক্রম বাড়াতে চাইছে VHP। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়নি।
 
সংগঠন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যৌথ গোসেবা কর্মসূচি শুরু হতে পারে। গোশালাগুলিকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান, গো-রক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রচার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গো-হত্যা ও পাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
 
এই বৈঠনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সংখ্যালঘু নেতৃত্বের উপস্থিতি। রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী গোসেবা সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সংখ্যালঘু সেলের নেতা ইকবাল ত্যাগী এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি রিজওয়ান আনসারিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ফলে গো-রক্ষার বিষয়টিকে কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
 
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ শাখার একাধিক নেতৃত্বকে সম্মানিত করা হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘গোমাতা স্মারক’ পুরস্কার। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বাবান ঘোষ এবং সংখ্যালঘু সেলের জাতীয় সভাপতি ইকবাল ত্যাগী। এছাড়াও ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক বিক্রম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ দে এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি স্বামী ঈশ্বরানন্দ প্রভুজি মহারাজ।
 
সব মিলিয়ে দিল্লির এই বৈঠককে ঘিরে বাংলায় গো-রক্ষা কার্যক্রমের নতুন করে বিস্তারের ইঙ্গিত মিলছে। তবে বৈঠকে আলোচনা হওয়া পরিকল্পনাগুলি কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


শেহতীয়া খবৰ