মানবিকতার হাত ধরে নতুন জীবনের পথে জাহাঙ্গীর, পাশে মান্নান চৌধুরী

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
মানবিকতার হাত ধরে নতুন জীবনের পথে জাহাঙ্গীর, পাশে মান্নান চৌধুরী
মানবিকতার হাত ধরে নতুন জীবনের পথে জাহাঙ্গীর, পাশে মান্নান চৌধুরী
 
নূরুল হক / আগরতলা

একটা দুর্ঘটনা কখন যে একটি মানুষের সাজানো জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়, তা হয়তো জাহাঙ্গীর হোসেনের জীবনকাহিনি না শুনলে উপলব্ধি করা কঠিন। একসময় লরি চালিয়ে সংসার চালাতেন ত্রিপুরার প্রান্তিক গ্রাম সোনামুরার জাহাঙ্গীর হোসেন। নিজের পরিশ্রমে পরিবারকে নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই মানুষটিকেই দীর্ঘ তিন বছর কাটাতে হয়েছে বিছানায় শুয়ে।
 
কর্মক্ষমতা হারিয়ে সংসার চালানোর সামর্থ্যটুকুও যখন প্রায় শেষ, তখনই তাঁর জীবনে আশার আলো হয়ে এগিয়ে এলেন সোনামুড়ার পরিচিত সমাজসেবী তথা ‘মানুষ মানুষের জন্য’ সংস্থার কর্ণধার মান্নান চৌধুরী। মান্নান চৌধুরীর হাত ধরে নতুন জীবনের সন্ধান পেলেন শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম জাহাঙ্গীর হোসেন।
 
জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মান্নান চৌধুরী
 
মাত্র ৪০ বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে। বছর তিনেক আগে তাঁর ডান পায়ে একটি ফোড়া হয়। পরবর্তীতে সেই ফোড়ার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করলে চিকিৎসার স্বার্থে হাঁটুর নিচ থেকে তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কার্যত থমকে গিয়েছিল তাঁর স্বাভাবিক জীবন। যে মানুষটি একসময় বড় লরি চালিয়ে উপার্জন করতেন, সেই মানুষটিই শারীরিক অক্ষমতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েন।
 
কর্মক্ষমতা হারিয়ে সংসার চালানোর পথ খুঁজে পাওয়া যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখনই মানবিক হাত বাড়িয়ে দেন মান্নান চৌধুরী। প্রবাসে থাকা কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতা এবং নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ইলেকট্রিক অটো কিনে জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে তুলে দেন মান্নান চৌধুরী।এই ইলেকট্রিক অটো জাহাঙ্গীরের কাছে নতুন করে বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর আবার উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে জাহাঙ্গীরের।
 
মান্নান চৌধুরীর এই মানবিক উদ্যোগে আপ্লুত জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যেই শেষ হয়নি এই মানবিকতার গল্প। বরং অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
 
জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার সময় রাস্তায় যদি কখনও কোনও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের দেখা পান, তাহলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে বিনা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করবেন।
 
যে মানুষটি একদিন অসহায় অবস্থায় অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তিনিই অন্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। মানবিকতার এই ধারাবাহিকতাই যেন ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
 
জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মান্নান চৌধুরী
 
মানবিকতার কোনও ধর্ম নেই, নেই জাতির বিভেদ
 
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য মান্নান চৌধুরী বরাবরই পরিচিত। ধর্ম কিংবা জাতির বিভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে পরিচিত মহলে আলোচনা রয়েছে।
 
জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে ইলেকট্রিক অটো তুলে দেওয়ার ঘটনাও সেই মানবিক উদ্যোগেরই একটি দৃষ্টান্ত। এখানে সাহায্য শুধু অর্থের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, একজন মানুষের আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার আশা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা। একইভাবে বার্তা তুলে দিয়েছে মানবিকতার সেতু বন্ধনের।


শেহতীয়া খবৰ