সন্দেশখালিতে বিরাট ‘হুঁশিয়ারি’ মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের! পুলিশের সামনেই ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কথা আইনজীবী আলি আফজাল চাঁদের
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
সন্দেশখালিতে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের সভায় বিৃঙ্খলার চেষ্টার অভিযোগ। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে হাইকোর্টের আইনজীবী তথা সংগঠনের রাজ্য সভাপতি আলি আফজাল চাঁদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শাহজাহান হয়ত বেরোবে, তোরা ঢুকবি জেলে’। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের লোকসভা কমিটির সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তীব্র অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয় পুলিশের উপস্থিতিতেই, এমনটাই দাবি করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এই অবস্থায় পিছিয়ে আসা তো দূরের কথা পাল্টা হিসেবে দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যে সভার মঞ্চ থেকেই তোপ দাগলেন হাইকোর্টের আইনজীবী তথা সংগঠনের রাজ্য সভাপতি আলি আফজাল চাঁদ। বলে দিলেন তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনার কথা।
মঙ্গলবার বিকেলে বসিরহাট লোকসভা কমিটির এই বিশেষ কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের পক্ষ থেকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জাতীয় কনভেনার মো. আফজাল, সর্বভারতীয় সভানেত্রী শাহ শাওয়াজ আফজাল, বসিরহাট লোকসভা কনভেনার ফারুক আকুনজি এবং রাজ্য সভাপতি আলি আফজাল চাঁদ। আইনজীবী আফজাল চাঁদ দাবি করলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য ও বিজেপি নেতৃত্ব সহ শুভেন্দু অধিকারীর অনুমোদনেই সমস্ত আইনি পথ মেনে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অভিযোগ, সভা চলাকালীন হঠাৎই কিছু অবাঞ্ছিত মানুষজন চড়াও হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে শুরু করে। সভায় উপস্থিত মানুষজনের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবী আলি আফজাল চাঁদ মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাঁরা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাঁদের বাইরে রাখা হবে না। আমি চলে যাওয়ার পর যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তবে শাহজাহান হয়তো জেল থেকে বেরোবে, কিন্তু এই দুষ্কৃতীদের সোজা জেলের গরাদে ঢুকতে হবে।
তবে এই সাময়িক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কাটিয়ে সভার কাজ শুরু করা হয়। বিশৃঙ্খলা সামলে নিয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বাভাবিক ছন্দেই শেষ হয় কর্মীসভা। এদিন এই সভাকে ঘিরে উপস্থিত সকলের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সন্দেশখালির মাটিতে দাঁড়িয়ে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কিন্তু রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে।