ধর্ম-বর্ণের ভেদ ভুলে খার্চি মেলায় জনজোয়ার, মিলনের অনন্য নজির

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
ধর্ম-বর্ণের ভেদ ভুলে খার্চি মেলায় জনজোয়ার, মিলনের অনন্য নজির
ধর্ম-বর্ণের ভেদ ভুলে খার্চি মেলায় জনজোয়ার, মিলনের অনন্য নজির
 
নূরুল হক / আগরতলা

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব। রবিবার পুরাতন আগরতলার খার্চি মেলা প্রাঙ্গনে উপচে পড়া ভিড় সেই সম্প্রীতির ছবিকেই আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল। দুপুরের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে মেলা প্রাঙ্গনে।
 
সন্ধ্যার পর ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে জাতীয় সড়ক থেকে চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে পৌঁছাতে দর্শনার্থীদের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গন ছিল জনসমুদ্রে পরিপূর্ণ। ভিড়ে ঠাসা মেলায় সন্ধ্যায় কৃষ্ণ মালা মঞ্চে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কৃতি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
 

মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রতন চক্রবর্তীর হাত থেকে ১০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে-মেয়ে সহ বিধানসভা এলাকার কৃতি ছাত্র-ছাত্রী এবং মেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী স্কাউট-গাইড সদস্যরা সম্মাননা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজেশ ভৌমিক এবং পুরাতন আগরতলা ব্লকের বিডিও রতন নমঃ।
 
২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সাতদিনব্যাপী খার্চি উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জনজাতি সম্প্রদায়ের বিশেষ ফুড কোর্ট, আনন্দমেলা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। এ বছরের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘এক পেড় মা কে নাম’। এই বার্তাকে সামনে রেখে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের মধ্যে এক হাজার করে বৃক্ষচারা বিতরণ করছে মেলা কমিটি।
 
আগরতলার খার্চি মেলার একটি দৃশ্য
 
মেলার শুরুতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও শনিবার থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। রবিবার সেই ধারা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে এ বছরের সর্বোচ্চ ভিড়ের সাক্ষী থাকে খার্চি মেলা।
 
মেলা কমিটির চেয়ারম্যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী বলেন, খার্চি উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে মিলনের বার্তা দেন। তিনি আরও জানান, চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের ঐতিহ্য আজ জাতীয় স্তরেও স্বীকৃত।
 
আগরতলার খার্চি মেলার একটি দৃশ্য
 
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত ট্যাবলোতে এই মন্দিরের স্থান পাওয়া এবং সম্মান অর্জন তারই প্রমাণ। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধু-সন্তদের জন্য মেলা কমিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাবার এবং নিরাপদে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
 
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য সমন্বয়ে এ বছরের খার্চি উৎসব রাজ্যের মানুষের কাছে এক মিলনোৎসবে পরিণত হয়েছে।


শেহতীয়া খবৰ