ধর্ম আলাদা হলেও হৃদয় এক! হিন্দু মহিলার শেষযাত্রায় কাঁধ দিলেন মুসলিম যুবকেরা, হরিহরপাড়ায় সম্প্রীতির অনন্য ছবি
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
ধর্মের পরিচয় গুরুত্ব নয়, গুরুত্ব পেল মানুষের পরিচয়। মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়ায় হিন্দু মহিলার শেষযাত্রায় কাঁধ দিলেন মুসলিম যুবকেরা। ধর্মের পরিচয় ছাপিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সামনে চলে আসে শুধুই সম্প্রীতির ছবিটা। জানা যায়, মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার মসুরডাঙ্গা গ্রামে এক হিন্দু মহিলার শেষকৃত্যের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন গ্রামের সহৃয় মুসলিম যুবকেরা। বিপদের সময়ে ধর্ম নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় পরিচয়, এই বার্তাই যেন নীরবে তারা ছড়িয়ে দিলেন।
মসুরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা টুসটুসি দাসীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। জানা যায়, এই গ্রামে হিন্দু পরিবারের সংখ্যা মাত্র দু-তিনটি। গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম সম্প্রদায়ের। পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে শেষকৃত্যের প্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল মৃত টুসটুসি দাসীর পরিবারের পক্ষে। ঠিক পরিবারের এই অসহায়তার দিনে তাদের পাশে এগিয়ে এলেন গ্রামের মুসলিম যুবকেরা।
বিপদের দিনে দাঁড়ানোর জন্য কেউ অপেক্ষা করেননি কে কোন ধর্মের, সেই হিসাব মেলানোর জন্য। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা পথে নামে গেলেন। গ্রামের সকলের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন পাঁচ টাকা, দশ টাকা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিল তিল করে জোগাড় হওয়া সেই অর্থই হয়ে ওঠে হিন্দু মহিলার শেষকৃত্যের ভরসা। শুধু অর্থ সংগ্রহ করেই থেমে থাকেননি এলাকার যুবকেরা। মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সৎকারের যাবতীয় দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নেন তাঁরা।
হিন্দু মহিলার শেষযাত্রায় মুসলিম প্রতিবেশীরা
মৃতার পরিবার জানায়, এই গ্রামে তাঁদের পরিবারের পাশে বরাবরই দাঁড়িয়েছেন মুসলিম প্রতিবেশীরা। যেকোন সুখে-দুঃখে গ্রামে সকলেই একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ান। টুসটুসি দাসীর মৃত্যুর ঘটনার সময়ে সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন দেখা গেল।বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে ধর্মের পরিচয় অনেক সময় মানুষকে আলাদা করে দেখার কারণ হয়ে ওঠে, সেখানে মসুরডাঙ্গার এই ছোট্ট গ্রাম দেখাল এক অনন্য সম্প্রীতির নজির।
একজন মানুষের শেষযাত্রায় আর একজন মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম প্রতিবেশীরা। যে ঘটনায় প্রমাণ করল, হিন্দু-মুসলিমের বিভাজন হারিয়ে গেল মানবিকতার কাছে। শেষকৃত্যে গোটা গ্রামের মানুষ এভাবে পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা বুঝিয়ে দিল সহমর্মিতার মূল্য অনেক বেশি। মায়ের কোলে যেমন সব সন্তানই সমান, তেমনই মানুষের বিপদের মুহূর্তেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোনও ধর্ম হয় না। প্রতিবেশীদের এই দায়িত্ববোধে মনে করিয়ে দিল, শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়, সে একজন মানুষ।