সম্পত্তি লিখিয়ে নিল ছেলে, তারপর ঠাঁই হল খোলা বাসস্ট্যান্ডে! সরকারি চাকুরে ‘গুণধর’ ছেলের কাণ্ড ভাইরাল হতেই চোখে জল সকলের
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত সমস্ত সম্পদ কেড়ে নামানো হল রাস্তায়! সরকারি চাকুরে ছেলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল গোটা এলাকার জুড়ে। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের আগলে রাখা ভরসার জীবন কাটানোর কথা প্রত্যেক বাবা-মায়ের। কিন্তু সেই সন্তানই যদি বাবা-মাকে ভুল বুঝিয়ে সর্বস্বান্ত করে রাস্তায় ফেলে দেয়, তার থেকে দুঃখের আর কি হতে পারে। নদিয়া জেলার নবদ্বীপে এমনই এক অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অভিযোগের তির রাজ্য পুলিশের এক কনস্টেবল গৌরাঙ্গ সরকারের দিকে।
পরিবার সূত্রে খবর, বৃদ্ধ ভজন সরকার গলায় জটিল অস্ত্রোপচারের পরই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনটা কোনরকম বাঁচাতে নলের মাধ্যমে তাঁকে তরল খাবার খেতে হয়। অভিযোগ, বাবার এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ছেলে গৌরাঙ্গ ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করে বাবা-মায়ের নামে থাকা টাকা-পয়সা, জমি সহ পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছে। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অসুস্থ বাবা ও বৃদ্ধা মা অনিমা সরকারকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে। কাঁদতে কাঁদতে নিজের ভাগ্যের কথাগুলো বলতে লাগলেন বৃদ্ধা অনিমাদেবী।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশকিছু দিন ধরে নবদ্বীপ ঘাট সংলগ্ন একটি বাসস্ট্যান্ডই যেন তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। সেখানেই কোনরকমে কারও দেওয়া একটা ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটছে এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির। এই দম্পতির বড় ছেলে ভরত সরকার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। সামান্য রোজগার তাঁর। থাকেন ছোট একটি ঘরে আলাদা হয়ে। ফলে কোনও উপায় না পেয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে নবদ্বীপ ঘাট সংলগ্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে তাবু খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে প্রথম আসে স্থানীয় সমাজসেবী সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অসহায় দম্পতির ছবি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জনপ্রতিনিধি থেকে পুলিশ আসে বিষয়টি মিমাংসার জন্য। সকলের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধা অনিমা দেবী বললেন, সব হারিয়ে ফেলেছি, শেষ বয়সে শুধু নিজের ভিটে আর সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকারটুকু চাই। বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।