হিন্দু মুসলমান সম্প্রতির বিরল নিদর্শন আধা কিলোমিটার রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি

Story by  Satananda Bhattacharjee | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 Months ago
হিন্দু মুসলমান সম্প্রতির পথের উন্মোচনের দৃশ্য
হিন্দু মুসলমান সম্প্রতির পথের উন্মোচনের দৃশ্য
শতানন্দ ভট্টাচার্য

সরকার, নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, পঞ্চায়েত সবার প্রতি আস্থা হারিয়ে হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে আধা কিলোমিটার রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি  করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায়।
 
আয়নাখাল - লক্ষীনগর এলাকার কুকিছড়া আর এ এলাকায় একটি গ্রামীণ রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন থেকেই খুবই খারাপ । এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষই যাতায়াত করেন। এখানকার মানুষ বহুদিন থেকে হাইলাকান্দির বিধায়ক জাকির হোসেন লস্করের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোন কাজ হয়নি। এরপর তারা জেলা প্রশাসন, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, করিমগঞ্জের (বর্তমানে স্রীভূমি) সাংসদসহ সবাইকে অনরোধ জানিয়েও যখন কাজ হয়নি তখন গ্রামবাসীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা আর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে যাবেন না। হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাঁরা দুর্গোৎসবের আগেই নিজেরা চাঁদা তুলে রাস্তা তৈরি করবেন। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তব রূপ দিতে সবাই তখন মাঠে নেমে পড়েন। শুরু হয় হিন্দু মুসলমান মিলে চাঁদা সংগ্রহ। মোট চাঁদা সংগ্রহ হয় ৫৩ হাজার টাকা। এবং সে টাকাতেই রাস্তাটা চলাচলের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কুকিছরা আর এ এলাকার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন গ্রামেরই মানুষ। প্রায় পনেরো দিন ধরে কাজ করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এরপর আসে রাস্তাটি উদ্বোধনের পালা। সবাই মিলে আবারো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এই রাস্তাটি উদ্বোধন করবেন একজন হিন্দু পুরোহিত এবং একজন মৌলভী। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে স্থানীয় পুরোহিত রাজেন্দ্র পান্ডে এবং স্থানীয় মৌলানা আজির উদ্দিন লস্কর রাস্তার উদ্বোধন করেন। 

রাজেন্দ্র পান্ডে বলেন যে স্বাধীনতার এত বছর পরও গ্রাম শহরের রাস্তাঘাট বিপর্যস্ত থাকাটা দুর্ভাগ্যের। সাধারণ একটা গ্রামীণ রাস্তার জন্যে কুনো নির্বাচিত প্রতিনিধি এগিয়ে না আসাটাও দুর্ভাগ্যের । পান্ডের মতে হিন্দু মুসলমান সবার কাছেই রাস্তা সমান, সবাইকে একই রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হয়। গ্রামের দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এক হয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাজ হয়ে থাকবে।