নীরব মানুষের ভিড়ে এক মুসলমান যুবকের সাহসে বাঁচল মুকেশের প্রাণ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
পরিবহন ব্যবসায়ী মুকেশ কুমার
পরিবহন ব্যবসায়ী মুকেশ কুমার
 
অনিকা মহেশ্বরী / নয়া দিল্লি

২৬ বছর বয়সী পরিবহন ব্যবসায়ী মুকেশ কুমার, যিনি একা হাতে দিল্লির রাস্তায় তিন মহিলাকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন, নিজেই দুষ্কৃতীদের নির্মম মারধরের শিকার হন। আশপাশের লোকজন যখন দৃশ্যটি নিঃশব্দে দেখছিলেন, তখনই এগিয়ে আসেন এক মুসলিম পথচারী, যিনি নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও মুকেশকে বাঁচিয়ে দেন।
 
ঘটনাটি ঘটে ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে। সংগম বিহারে কাকির বিয়ে থেকে ফেরার পথে মুকেশ চা খাওয়ার জন্য মেহরাউলির একটি দোকানে থামেন। ভোরের ফাঁকা রাস্তায় তিনি হঠাৎ দেখতে পান, চারজন যুবক তিন মহিলাকে কটূক্তি ও অশ্লীল ইঙ্গিত করছে। আশপাশে দোকানদার ও পথচারীরা থাকলেও, কেউ এগিয়ে আসছিল না।
 
সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুকেশ এই অন্যায় সহ্য করতে না পেরে যুবকদের থামাতে অনুরোধ করেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে চার দুষ্কৃতী মিলে তাঁকে আক্রমণ করে। এক জন পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে, অন্যরা লাঠি ও ঘুসি চালাতে থাকে। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
 

ভিড়ের মধ্যে যখন সবাই নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে, তখনই সামনে আসেন একজন মুসলমান ব্যক্তি, যাঁকে পরে মুকেশ ‘মোল্লা জী’ বলে উল্লেখ করেন। মাথায় টুপি, মুখে দাড়িওয়ালা এই ব্যক্তি নিজের নিরাপত্তা ভুলে দুষ্কৃতীদের মাঝে ঢুকে পড়েন। তিনি মুকেশকে ঢেকে দুষ্কৃতীদের থামান এবং আহত মুকেশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনেন।
 
চেতনা ফিরতেই আবেগে ভেঙে পড়েন মুকেশ। তিনি বলেন, “ওই মানুষটা আমাকে না বাঁচালে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। তিনি আসলেই আমার প্রাণরক্ষক। মানবতা এখনো মরে যায়নি।”
 
ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুকেশকে হাসপাতালে পাঠায়। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে এইমস ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
মুকেশের বিবৃতি, মহিলাদের অভিযোগ ও ভিডিও-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে, একই সঙ্গে মহিলাদের সময়মতো ফোন করে সাহসিকতার প্রদর্শনের প্রশংসা করা হচ্ছে।
 
ঘটনার পর এলাকাবাসী ও দোকানদারদের মুখে একটাই নাম, মুকেশকে বাঁচানো সেই মুসলিম মানুষটি। এক দোকানদার বলেন, “আজকের দিনে যেখানে মানুষ অন্যের দিকে তাকাতে চায় না, সেখানে ওই ব্যক্তি দেখিয়েছেন, মানুষ হওয়ার আসল অর্থ ঠিক কতটা গভীর।”