হিন্দু প্রতিবেশীর শেষকৃত্যে মুসলিম মাওলানার বিরল দৃষ্টান্ত! সম্প্রীতির নজির গড়লেন ইমাম মনসুর

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 54 m ago
হিন্দু প্রতিবেশীর শেষকৃত্যে মুসলিম মাওলানার বিরল দৃষ্টান্ত! সম্প্রীতির নজির গড়লেন ইমাম মনসুর
হিন্দু প্রতিবেশীর শেষকৃত্যে মুসলিম মাওলানার বিরল দৃষ্টান্ত! সম্প্রীতির নজির গড়লেন ইমাম মনসুর

তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

হিন্দু বৃদ্ধার শেষকৃত্যে পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম মাওলানা। ধর্মীয় ভেদাভেদকে সরিয়ে রেখে সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি দেখা গেল মালদা জেলার সামসীর ভগবানপুর গ্রামে। ধর্মের পরিচয় আলাদা হলেও সংকটের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা মনুষ্যত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়, যা বাস্তবে দেখালেন এই মুসলিম মাওলানা। স্থানীয় সূত্রে খবর, মালদা জেলার রতুয়া-১ নং ব্লকের ভগবানপুর গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী মঙ্গলা প্রামাণিক বার্ধক্যজনিত কারণে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন আগেই স্বামীহারা হয়েছেন মঙ্গলা দেবী। রেখে গিয়েছেন সন্তানদের। মঙ্গলবার দুপুরে সামসী সাপাহারা শ্মশানে বৃদ্ধার শেষকৃত্যে এগিয়ে এলেন প্রতিবেশী মুনসুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেন।
 
মুনসুর রহমান পেশায় একজন মসজিদের ইমাম, পাশাপাশি তিনি শিক্ষক। আরবি সাহিত্যে এমএ-তে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এই যুবক কোনো দ্বিধা ছাড়াই মঙ্গলা দেবীর শেষকৃত্যের খবর পৌঁছতেই শ্মশানে ছুটে আসেন। নিজের হাতেই খুঁড়ে ফেলেন অন্তিম শয়ানের স্থান,  সমর্পণ করলেন মাটি। পাশাপাশি, স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেনও হিন্দু বৃদ্ধার শবদেহ শ্মশানে পৌঁছে দিয়ে বাড়িয়ে দেন মানবিকতার হাত। বলা ভালো, শোকে আচ্ছন্ন থাকা পরিবারের পাশে দুই যুবকের এই উপস্থিতি ছিল নিখাদ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
 
মাওলানা মুনসুর রহমান জানালেন,  আসলে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই আসল ধর্ম। সবকিছু সরিয়ে রেখে প্রতিবেশী হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। বলতে পারেন, মানবিকতার জায়গায় আমাদের কোনো বিভেদ নেই। বৃদ্ধার পরিবারও এই দুই মুসলিম যুবকের উপস্থিতি নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এই সম্প্রীতির বাঁধন চিরকাল তাদের হৃদয়ে অক্ষুণ্ণ থাকবে।
 
হিন্দু বৃদ্ধার শেষকৃত্যে পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম মাওলানা

মঙ্গলা দেবীর দেওরের ছেলে বাবলু প্রামাণিক বলেন, মুনসুর ও সাদ্দাম যেভাবে আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা কোনও দিন ভোলার নয়। এমন সম্পর্কই আমাদের গ্রামের সম্প্রীতির পরিচয়। ওঁদের প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ রইলাম। স্থানীয়দের মতে, ভগবানপুরের এই ঘটনা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। আসলে ভালোবাসাই দিনশেষে প্রতিটি মানুষের পরম আশ্রয়।