ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম
Story by Aasha Khosa | Posted by Aparna Das • 1 h ago
এ পি জে আব্দুল কালামের জন্মবার্ষিকীতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু
আশা খোসা
ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম ছিলেন ‘জনতার রাষ্ট্রপতি’, এমন একজন বিজ্ঞানী, যিনি সমগ্র বিশ্বের শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন এমন এক জাতীয় প্রতীক, যাঁর প্রভাব রাজনৈতিক ক্ষমতার সীমানা অতিক্রম করে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। আজও তাঁর নাম তরুণ প্রজন্মের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। শিক্ষার্থীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করার অসাধারণ ক্ষমতা এবং ভারতের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর স্মরণীয় আহ্বানগুলি আজও অতুলনীয়।
তাঁর সাম্প্রতিক জন্মবার্ষিকীতে একাংশ মুসলমানের উত্থাপিত একটি প্রশ্ন আমাকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। একে একপ্রকার সামষ্টিক আত্মবিশ্লেষণের প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে: মুসলমানরা যেভাবে কিছু উগ্র মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তি কিংবা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত নেতাদের নিজেদের বলে আপন করে নেন, সেই একই আবেগে কালামকে আপন করে নিতে তাঁদের দেখা যায় না কেন?
এই আপাতবিরোধটি বুঝতে হলে প্রথমেই তাঁর জীবনযাপন এবং তিনি যে মূল্যবোধগুলি ধারণ করেছিলেন, সেগুলির দিকে নজর দিতে হবে।
সকলেই জানেন, কালাম দক্ষিণ ভারতের একটি সাধারণ মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন। সেখানে মানবিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের নৈতিক শিক্ষাকে কখনোই পৃথক করে দেখা হতো না। তিনি কোনো আবদ্ধ বা সংকীর্ণ পরিবেশে বড় হয়ে ওঠেননি; বরং এমন একটি মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেড়ে উঠেছিলেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন। এই পরিবেশ তাঁর উদার ও সর্বগ্রহণযোগ্য দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এ ছাড়া, দক্ষিণ ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক গ্রন্থ নিয়ে চর্চার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
অতি সাধারণ একটি পটভূমি থেকে উঠে এসে কালাম একজন সুপরিচিত বিজ্ঞানী, স্বপ্নদ্রষ্টা এবং পরিশেষে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর এই সাফল্যের ক্ষেত্রগুলি মূলত ছিল ধর্মনিরপেক্ষ পরিসর, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় কখনোই প্রাথমিক বিবেচনার বিষয় ছিল না। তাঁর সাফল্যের ভিত্তি ছিল বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, একাগ্রতা এবং দেশের প্রতি অটল অঙ্গীকার। জনসাধারণের সমর্থন অর্জনের জন্য তাঁকে কখনোই নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হয়নি।
একজন নবীন বিজ্ঞানী হিসেবে কালাম হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা এবং বিক্রম সারাভাইয়ের মতো অগ্রণী ব্যক্তিত্বদের গড়ে তোলা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে কাজ করেছিলেন। এই ব্যক্তিত্বরা আধুনিক ভারতের পারমাণবিক ও মহাকাশ কর্মসূচির মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কোটি কোটি মানুষের দুবেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে সংগ্রামরত একটি দেশের জন্য তাঁরা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলেন।
জাতি গঠন এবং নিঃস্বার্থ সেবার সেই মনোভাব কালাম নিজের মধ্যে আত্মস্থ করেছিলেন। গবেষণাগারের সাফল্যের মাধ্যমে ভারতকে একটি বৈজ্ঞানিক শক্তিতে রূপান্তরিত করতে এবং দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
নিজের এই মহান লক্ষ্যে তিনি সর্বদা অবিচল ছিলেন। তিনি কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি এবং সমগ্র জীবন বিজ্ঞান, শিক্ষা ও দেশের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি দেশকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে বড় উদ্দেশ্য আর কী হতে পারে?
আড়ম্বর থেকে দূরে এক নিভৃত আধ্যাত্মিক জীবন
অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মতো মুসলিম সমাজেও কখনো কখনো একজন ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা তাঁর বাহ্যিক আচার-আচরণের মাধ্যমে বিচার করার প্রবণতা দেখা যায়। যেহেতু সাধারণ মুসলমানরা কালামকে দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তে কিংবা প্রকাশ্যে কোরআন নিয়ে আলোচনা করতে দেখেননি, তাই তাঁদের একাংশের মনে তাঁর জীবনে ধর্মীয় রীতিনীতির স্থান নিয়ে হয়তো কিছুটা সন্দেহ থাকতে পারে।
কিন্তু একজন মানুষের বিশ্বাস বা ঈমানকে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সব সময় বিচার করা যায় না। যাঁরা কালামকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁরা তাঁর সরলতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং জীবনের লক্ষ্যের প্রতি একাগ্রতাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বীণা বাজাতেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক ঐতিহ্যের গ্রন্থ অধ্যয়ন করতেন এবং অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন।
ইসরোতে (ISRO) কালামের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত আমার ভগ্নিপতি একবার ত্রিবান্দ্রমে (বর্তমান তিরুবনন্তপুরম) একটি লজে তাঁর ঘরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঘরটির অকল্পনীয় সরলতা দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন। ঘরে একটি বিছানা, একটি টেবিল এবং একটি চেয়ার ছাড়া বিশেষ কিছুই ছিল না। মেঝের মাঝখানে একটি মাদুর পাতা ছিল, যার পাশে বইগুলি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ছিল। এমন সরলতা প্রায়ই গভীর আন্তরিক শৃঙ্খলাবোধ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিফলন ঘটায়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের একচেটিয়া সম্পদ হতে পারে না।
রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে অবস্থিত একটি মসজিদেও কালাম কোনো রকম আড়ম্বর ছাড়াই যেতেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নামাজে অংশ নিতেন এবং কাতারের যেখানে খালি জায়গা পেতেন, সেখানেই দাঁড়াতেন। তিনি যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী, তা প্রমাণ করার জন্য নিজের মুসলিম পরিচয় প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে বেড়ানোর কোনো প্রয়োজন তিনি অনুভব করতেন না।
তাঁর আধ্যাত্মিকতা ছিল লক্ষণীয়ভাবে সর্বগ্রহণযোগ্য। হিন্দু আধ্যাত্মিক গুরুদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং সম্প্রীতির ওপর তাঁর গুরুত্বারোপ তাঁকে ধর্মীয় সীমার ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বয়ের সেতুবন্ধনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
সমন্বয়ের প্রতীক এবং বহুমাত্রিক পরিচয়
অনেক মুসলমানের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। কিন্তু অন্য একাংশের কাছে কোনো জনপরিচিত ব্যক্তির ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো তুলনামূলকভাবে কম প্রাসঙ্গিক বলে মনে হতে পারে। বিশেষত, যখন তাঁরা কোনো বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে কেবল ইসলামি পাণ্ডিত্য, মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রকাশ কিংবা সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা বিষয়গুলিতে সরব হওয়ার প্রত্যাশা করেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কালাম মুসলিম সমাজসহ সমস্ত ভারতীয়ের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। সম্ভবত এটাই অন্যতম কারণ, যার জন্য অনেক মানুষ তাঁকে কেবল একজন ‘মুসলমান’ হিসেবে পরিচিত করার পরিবর্তে প্রথমত একজন ভারতীয়, একজন বিজ্ঞানী, একজন শিক্ষক এবং একজন দেশপ্রেমিক হিসেবেই আপন বলে অনুভব করেন।
আমাদের প্রত্যেকেরই একাধিক পরিচয় রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি সক্রিয় রাজনীতি কিংবা ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, ততক্ষণ অন্য সমস্ত পরিচয়কে উপেক্ষা করে কেবল একটি পরিচয়কে সামনে তুলে ধরার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে কালামের সম্পর্ককেও এই প্রেক্ষাপটেই বুঝতে হবে।
পরিচয় সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীর গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, কীভাবে ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট ও স্থির পরিচয়ের গণ্ডির পরিবর্তে একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠেন। কালামের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করলে দেখা যায়, মুসলমানরা তাঁকে প্রধানত একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং ভারতীয় দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখেন বলে তাঁর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা কিংবা আত্মীয়তার অনুভূতি দুর্বল হয়ে যায় না।
একই সঙ্গে, তাঁর জাতীয় পরিচয় কখনোই তাঁর মুসলিম পটভূমিকে মুছে দেয়নি। দুটি পরিচয়ই পাশাপাশি বিদ্যমান ছিল। তাঁর জীবনই প্রমাণ করে যে একজন ব্যক্তি প্রতিটি জনপরিসরের কাজেই নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান করে না তুলেও সেই পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে একটি বৈচিত্র্যময় দেশের সেবা করতে পারেন।
সুতরাং, কালামের সাফল্য মুসলমানদের জন্য গর্বের একটি শক্তিশালী উৎস হতে পারে। কারণ, তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় হারিয়ে না ফেলেই ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তাঁর আদর্শের সঙ্গে মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ, সংস্কারক, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ কিংবা সম্প্রদায়ের নেতাদের অবদানের প্রতিযোগিতা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য ও সেবার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।
‘রকেট বয়েজ’-এর পোস্টারে এ. পি. জে. কালাম
তাঁর জনজীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, শিক্ষা, জাতীয় উন্নয়ন এবং সর্বধর্ম সমন্বয়। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে একজন মুসলিম ব্যক্তিও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে ধর্মীয় সীমারেখা অতিক্রম করে সমস্ত মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারেন।
এই প্রশ্নগুলি নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি নিজেও একটি ছোট্ট অনানুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। ভারতের অগ্রণী বিজ্ঞানীদের জীবন এবং দেশের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রাথমিক বিকাশের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি অসাধারণ ওয়েব সিরিজ ‘রকেট বয়েজ’ একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছিল। এই সিরিজে ভারতের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তার একটি সুন্দর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, এতে কালামকেও একজন তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে দেখানো হয়েছে। সিরিজটি দেখলে কালামের কল্পনাশক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা গড়ে তোলার পেছনে যে বৈজ্ঞানিক পরিবেশের ভূমিকা ছিল, তা ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।
তবুও আমি অবাক হয়েছিলাম যে আমার তরুণ মুসলিম সহকর্মীদের কেউই সিরিজটি দেখা তো দূরের কথা, এর নাম পর্যন্ত শোনেননি।
এটি ছিল আমার একান্ত ব্যক্তিগত ও সীমিত পর্যবেক্ষণ, সমগ্র মুসলিম তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো সমীক্ষা নয়। তবুও, এটি আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল যে প্রকৃত সমস্যা হয়তো কালামকে আপন করে নিতে মুসলমানদের অনীহা নয়; বরং তাঁর জীবন, আদর্শ এবং বৌদ্ধিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের পরিচয় অত্যন্ত সীমিত হওয়াটাই এর মূল কারণ হতে পারে।
আমরা যদি একটি উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে শক্তিশালী ভারতের বিষয়ে কালামের দেখা স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্ভাবক এবং জাতি গঠনে আত্মনিয়োগকারী ব্যক্তিদের জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী মিম ও রিলের জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে এমন কিছু আদর্শ ও সাফল্যের প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্য তাদের উৎসাহিত করতে হবে, যা তাদের নিজেদের জীবন এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের মহত্ত্ব এবং উত্তরাধিকার সমগ্র ভারতবাসীর। তবে মুসলিম সমাজের কাছেও তাঁকে নিজেদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গর্বের সঙ্গে আপন করে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে বারবার প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠা করতেন বলে নয়; বরং তিনি সমগ্র বিশ্বকে প্রমাণ করে গিয়েছেন যে ‘একজন মুসলমান হওয়া’ এবং ‘একজন প্রকৃত ভারতীয় হওয়া’, এই দুটি বিষয় কখনোই পরস্পরবিরোধী হতে পারে না।