আওয়াজ–দ্য ভয়েস
ইউনিফর্ম পরিহিত এবং জনসেবায় নিয়োজিত নারীদের একটি নতুন প্রজন্ম আজ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী থেকে শুরু করে বিমান পরিবহন, চিকিৎসা পরিষেবা, আইন এবং নৌ-পরিবহন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের এই যাত্রা দৃঢ় সংকল্প, অদম্য মনোবল এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
এই প্রতিটি কাহিনি অধ্যবসায়ের শক্তি এবং লক্ষ্যপূরণের দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা তাঁদের ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষপ্রধান ক্ষেত্রগুলোতেও সাফল্য অর্জনের প্রেরণা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, তাঁরা পরিবর্তনের এক শক্তিশালী গল্প তুলে ধরছেন, যা সারা দেশের তরুণীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং গর্বের সঙ্গে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করছে।
অজীথা বেগম সুলতান
অজীথা বেগম সুলতান ভারতের পুলিশ প্রশাসনে দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া অজীথা নিজের কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার মাধ্যমে কেরালার ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ পদে পৌঁছেছেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি মানবপাচার চক্র, মাদক ব্যবসা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধসহ নানা জটিল মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কঠোর পেশাগত নীতির জন্য তিনি পরিচিত। তাঁর মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য সততা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ “একজন পুলিশ অফিসারের ভুল করার সুযোগ নেই।” এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি বহু কঠিন দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। পাশাপাশি সমাজের তরুণদের সঠিক পথে এগিয়ে নিতে তিনি স্টেট পুলিশ ক্যাডেট প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আনিসা নবি
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক পরিষেবার কর্মকর্তা আনিসা নবি একাধারে দক্ষ প্রশাসক এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ক্রীড়াবিদ। ২০১২ ব্যাচের জে-কে-এএস কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর স্পোর্টস কাউন্সিলের চিফ স্পোর্টস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিজেও একজন আগ্রহী দীর্ঘদৌড়বিদ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যারাথন প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি ভেদান্তা দিল্লি হাফ ম্যারাথন ও টাটা মুম্বাই ম্যারাথনের মতো উল্লেখযোগ্য দৌড় সম্পন্ন করেছেন, যা তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেয়। নারীদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ‘Wondrous Women’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন, যেখানে নারীদের নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও আনিসা নবি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করে চলেছেন। জিএসটি সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন এবং যুবকদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর মতো নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
রাজস্থানের নুয়ান গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত আহমেদের জীবনগাথা দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পারিবারিক মূল্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। ২০০১ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ধীরে ধীরে নিজের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে উচ্চপদে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি মীরাটে একটি অর্ডন্যান্স ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কাইমখানি সম্প্রদায়ের প্রথম নারী হিসেবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ইশরাত এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে সেনাবাহিনী ও সিভিল সার্ভিসে কর্মরত বহু সদস্য ছিলেন। সেই পারিবারিক ঐতিহ্য তাঁকে ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ শিখিয়েছে। নিজের কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি শুধু একজন দক্ষ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার তরুণী মেয়েদের তিনি উৎসাহিত করেন যাতে তারা সেনাবাহিনী বা সরকারি পরিষেবায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
বুশরা বানু
উত্তরপ্রদেশের কান্নৌজ জেলার একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে আসা বুশরা বানুর জীবন এক অসাধারণ সংগ্রামের গল্প। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (PHD) সম্পন্ন করা এই মেধাবী নারী একদিকে যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি প্রশাসনিক পরিষেবায় প্রবেশের স্বপ্নও লালন করেছেন।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তাঁকে একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে মাতৃত্ব, পেশাগত দায়িত্ব এবং কঠোর পড়াশোনা। সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হলো, তিনি যখন ইউপিএসসি (UPSC) সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, তখন তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তার ফলস্বরূপ তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে নির্বাচিত হন এবং পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দেন। আইপিএসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি শিক্ষকতা ও কর্পোরেট ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন এবং সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জীবনকাহিনি দেখায় যে শিক্ষা, পরিবারে সমর্থন এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
হানি কুরেশি
কলকাতার ক্র্যাডল ফার্টিলিটি সেন্টারের গড়িয়া শাখার সেন্টার-ইন-চার্জ ডা. হানি কুরেশি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক আইভিএফ প্রযুক্তি ও উন্নত প্রজনন-সংক্রান্ত নির্ণয় পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি বহু দম্পতিকে সন্তান লাভের আশা দিয়েছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করার পাশাপাশি তিনি রোগীদের সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা শুধু একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং এটি মানুষের আশা, মানসিক শক্তি এবং পারিবারিক স্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৪ সালে 'আইএসএআর ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ডে' সম্মানিত হওয়া তাঁর পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি। তিনি বিশ্বাস করেন যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে চিকিৎসাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
রেশমা নিলুফার নাহা
রেশমা নিলুফার নাহা সমুদ্রপথ ও নৌ-পরিবহন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের অধিকারী। তিনি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টে বিশ্বের প্রথম নারী রিভার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পেশায় প্রবেশ করার আগে তিনি 'অ্যাকাডেমি অব মেরিটাইম এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং' থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বহু বছর আন্তর্জাতিক জাহাজে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
২০১৮ সালে কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নদীপথে জাহাজ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নদীর সংকীর্ণ চ্যানেল দিয়ে বিশাল জাহাজ নিরাপদে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ, যার জন্য প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অসাধারণ মনোযোগ। রেশমা এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন এবং তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য তিনি নারী শক্তি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর অর্জন বহু তরুণীকে সাহস জুগিয়েছে যাতে তারা ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের দখলে থাকা পেশাতেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারে।
সারা রিজভি
সারা রিজভি ২০০৮ ব্যাচের একজন আইপিএস (IPS) কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইন্টার-ক্যাডার ডেপুটেশনে জম্মু ও কাশ্মীরের উদমপুর–রিয়াসি রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংবেদনশীল অঞ্চলে ডিআইজি বা আইজি পদে তিনিই একমাত্র নারী কর্মকর্তা।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নানা আর্থিক ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হন এবং ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনকারী সংস্থায় যোগ দেন। নির্বাচন পরিচালনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তিনি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস এবং দায়িত্ববোধ তাঁকে একজন সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সোফিয়া কুরেশি
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সোফিয়া কুরেশি নিজের কর্মদক্ষতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বাহিনীকে ঘিরে থাকা লিঙ্গভিত্তিক ধারণাকে তিনি নিজের সাফল্যের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন নেতৃত্বমূলক ও অপারেশনাল কাজে যুক্ত থেকেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তাঁর মতে, একজন সৈনিকের পরিচয় তার দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দেশের প্রতি নিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত। নিজের কর্মজীবনের মাধ্যমে সোফিয়া বহু তরুণীকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
তুবা সানোবর
মধ্যপ্রদেশের সেওনি জেলার বাসিন্দা তুবা সানোবর একজন তরুণ আইনজীবী, যিনি বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে কাজ করছেন। নাগরিক অধিকার, নারী সুরক্ষা এবং তথ্য-গোপনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আইনের জ্ঞানকে সামাজিক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।
‘SOZ’ প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি তরুণদের মধ্যে আইনি সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, আইন শুধু আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
হানা মোহসিন খান
মীরাটে জন্ম নেওয়া হানা মোহসিন খানের জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে নতুন স্বপ্ন দেখা সম্ভব। সৌদি আরবে আংশিক শিক্ষা লাভ করা হানা প্রথম জীবনে সাংবাদিকতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরে বিমানচালনার প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মালে তিনি নিজের পেশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসে কঠোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২০ সালে তিনি প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান পরিচালনা করেন এবং ভারতের অল্পসংখ্যক মুসলিম নারী পাইলটদের একজন হয়ে ওঠেন। হানার গল্প সাহস, কৌতূহল এবং সামাজিক ধ্যানধারণাকে অতিক্রম করার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর এই যাত্রা বহু তরুণীকে নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করার সাহস জোগায়।