NIMS হাসপাতালের বাইরে গত দশ বছর ধরে ক্ষুধার্ত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করে চলেছেন “ফুডম্যান” নামে পরিচিত মোহাম্মদ আজিজ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 h ago
হায়দরাবাদে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করতে দেখা যায় তাঁকে
হায়দরাবাদে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করতে দেখা যায় তাঁকে
 
আওয়াজ – দ্য ভয়েস অসম ব্যুরো

হায়দ্রাবাদের Nizam's Institute of Medical Sciences হাসপাতালের বাইরে প্রতিদিন সকালে এক অনন্য দৃশ্য দেখা যায়। নিজের অফিসের পোশাক পরে হাতে খাবারের পাত্র নিয়ে হাজির হন এক ব্যক্তি। অসহায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা এই সাধারণ মানুষটি আজ বহু মানুষের কাছে “ফুডম্যান” নামে পরিচিত। তিনি হলেন মোহাম্মদ আজিজ।প্রায় এক দশক আগে মাত্র ৩০টি খাবারের প্যাকেট দিয়ে শুরু করা তাঁর এই উদ্যোগ আজ শত শত মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
 
 

মোহাম্মদ আজিজ তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশ অঞ্চলে তাঁর বিভাগের একজন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি প্রায় এক দশক ধরে হায়দ্রাবাদের Nizam's Institute of Medical Sciences হাসপাতালের বাইরে প্রতিদিন খাবার বিতরণ করে আসছেন।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পর দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে আজিজ প্রায় দশ বছর আগে একটি “ফুড ব্যাংক” উদ্যোগ শুরু করেন। তাঁর মা মাত্র ৩০টি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে এই কাজের সূচনা করেছিলেন। আজ সেই ছোট উদ্যোগটি প্রতিদিন শতাধিক মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এক বড় উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকেরা রান্না করা, খাবার সংগ্রহ করা এবং বিতরণ করার কাজে সহায়তা করে আসছেন।একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে আজিজ অফিসের পোশাক পরে Nizam's Institute of Medical Sciences হাসপাতালে উপস্থিত হন। অনেক মানুষ খাবারের আশায় হাতে পাত্র নিয়ে সেখানে জড়ো হন এবং তিনি ধৈর্যসহকারে প্রত্যেককে খাবার পরিবেশন করেন। সকাল প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে খাবার বিতরণ শেষ করে তিনি নিজের অফিসে চলে যান।তাঁর এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও মানবিক কাজের জন্যই মানুষ তাঁকে ভালোবেসে “ফুডম্যান” নামে ডাকতে শুরু করেছে।
 

মোহাম্মদ আজিজ হায়দরাবাদে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছেন
 
এই উদ্যোগের ধারণাটি মোহাম্মদ আজিজের ব্যক্তিগত সংকল্প থেকেই জন্ম নিয়েছিল। তিনি ঠিক করেছিলেন, চাকরি পাওয়ার পর দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করবেন। এই ভাবনাটি তিনি তাঁর মা এবং বন্ধু দিলীপ, সত্য ও ইকবালের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁরা তাঁর কথা শুনেই পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেন।প্রথমে তাঁর মা প্রায় ৩০টি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করেছিলেন, যা সবাই মিলে বিতরণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই কাজটি একটি সাপ্তাহিক উদ্যোগে পরিণত হয় এবং বন্ধুরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবারের প্যাকেট দান করতে শুরু করেন।

এই ফুড ব্যাংকের মূল নীতি খুবই সহজ—পরিষ্কার, পুষ্টিকর এবং ঘরে যত্ন করে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা। আজিজ সাহায্যের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার সহায়তা নেন এবং এর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। স্বেচ্ছাসেবকেরা রান্না করা, শস্য সংগ্রহ করা কিংবা খাবার বিতরণে সাহায্য করতে শুরু করেন।ধীরে ধীরে খাবারের প্যাকেটের সংখ্যা ৩০–৪০ থেকে বেড়ে প্রায় ১,০০০-এ পৌঁছায়। হায়দরাবাদে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছেন মোহাম্মদ আজিজ।

এই কার্যক্রমটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি হায়দরাবাদের বিভিন্ন এলাকায় খাবার বিতরণ শুরু করে। তবে তারা বুঝতে পারে যে Nizam's Institute of Medical Sciences হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষের সহায়তা প্রয়োজন।কারণ এখানে দূর-দূরান্তের গ্রাম ও শহর থেকে চিকিৎসার জন্য বহু পরিবার আসে। অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি থাকা আত্মীয়ের দেখাশোনা করতে এসে তীব্র আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হন।
 

খাদ্য বিতরণ করাতে থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ আজিজ
 
মোহাম্মদ আজিজ বলেন,“আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি যারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে—যা আমাকে ভীষণভাবে আঘাত করে। অনেক মানুষ প্রচণ্ড গরমে খালি পায়ে হাঁটতে থাকে। আমরা যখন আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাই, তখন অনেকেই শক্ত পাথরের ওপর মাথা রেখে ফুটপাথে রাত কাটায়। কারণ তাদের প্রিয়জন হাসপাতালে ভর্তি থাকে, আর তারা তাদের সুস্থতার খবরের অপেক্ষায় থাকে।”