'ভাষা শহিদ স্টেশন' নামকরণেই কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে: বিডিএফ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 Months ago
 বিডিএফের কর্ণধার প্রদীপ দত্ত রায় কে আশীর্বাদ করছেন বরাক উপত্যকার প্রখ্যাত জননেতা ও সজ্জন রাজনীতিক কবীন্দ্র পুরকায়স্থ
বিডিএফের কর্ণধার প্রদীপ দত্ত রায় কে আশীর্বাদ করছেন বরাক উপত্যকার প্রখ্যাত জননেতা ও সজ্জন রাজনীতিক কবীন্দ্র পুরকায়স্থ
 
শিলচর 

বরাক উপত্যকার প্রখ্যাত জননেতা ও সজ্জন রাজনীতিক কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। একই সঙ্গে শিলচর রেলস্টেশনকে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ হিসেবে নামকরণের যে দাবি নিয়ে প্রয়াত নেতা সংসদে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন, তা আসন্ন বরাক সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে বিডিএফ।
 
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিডিএফ-এর মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আহ্বানে সরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ পদ ছেড়ে গৌহাটি গিয়ে বিজেপি দল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময় বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। বরাক উপত্যকাতেও বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর ধারাবাহিক ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই ধীরে ধীরে আসামে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত হয়। আসামে প্রথমবার বিজেপির দশটি বিধানসভা আসন জয়ের নেপথ্য কারিগরদের মধ্যে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ ছিলেন অন্যতম। দল ও জনগণের স্বার্থে তাঁর এই ত্যাগ ও অবদান বরাকবাসী দীর্ঘদিন স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেন দত্তরায়।
 
তিনি আরও বলেন, শিলচর স্টেশনের নাম ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ করার দাবিকে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ আন্তরিকভাবে সমর্থন করতেন এবং সাংসদ থাকাকালীন সংসদে একাধিকবার এই বিষয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর পুত্র, বর্তমান সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থও সেই উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যসভায় তাঁর প্রথম ভাষণেই এই দাবিকে তুলে ধরেছেন। দত্তরায় আক্ষেপ করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ জীবদ্দশায় এই দাবির বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি। তিনি জানান, চলতি মাসের ১৩ তারিখ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বরাক সফরে আসছেন। এই সফরেই ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ নামকরণের চূড়ান্ত ঘোষণা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিডিএফ আহ্বান জানাচ্ছে। তাঁর মতে, এই ঘোষণাই হবে প্রয়াত নেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।
 
এদিন বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, আসামে বিজেপির উত্থানের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়েও কবীন্দ্র পুরকায়স্থ তাঁর দলের কাছ থেকে কতটা প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনবারের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে রাজ্যপাল হিসেবে মনোনীত করার দাবি একসময় বরাকের সর্বস্তরের মানুষ তুলেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আজীবন সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনীতি করেছেন। বর্তমান সময়ের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বিপরীতে তাঁর রাজনৈতিক সৌজন্য ও শালীনতা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
 
বিডিএফ-এর সদস্যরা প্রয়াত নেতার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। বিডিএফ-এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এক প্রেস বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছেন।