পল্লব ভট্টাচার্য
একসময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ছিল পারস্পরিক আস্থা ও সফল কূটনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভূমি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়ার উন্নতি দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সীমান্তের কিছু অংশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সেই সাফল্যের গল্পের বিপরীত ছবি তুলে ধরছে। নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া মানুষ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান এবং নাগরিকত্ব নিয়ে দুই দেশের টানাপোড়েন এমন এক মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, যা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা এই সমস্যাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় অভিযোগ ওঠে যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিককে যথাযথ নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে ওই ব্যক্তি দুই দেশের মাঝখানে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়ে থাকেন, আর দুই পক্ষের কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একইভাবে জামালপুর সীমান্তে আরেকটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যরা কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং কয়েকজনকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহত্তর ও ক্রমবর্ধমান বিতর্কিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অবৈধ অভিবাসনের প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনথিভুক্ত অভিবাসনের ফলে সীমান্তবর্তী কয়েকটি রাজ্যে, বিশেষত অসম ও পশ্চিমবঙ্গে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটেছে। কয়েক দশক ধরে এই বিষয়টি নির্বাচনী রাজনীতি, সামাজিক উত্তেজনা এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ থাকলেও এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব সত্ত্বেও, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে।
বহু বছর ধরে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করেছিল। রাজনৈতিক বিরোধীদের দাবি ছিল, অবৈধ অভিবাসীরা সহজেই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে সক্ষম হয়েছিলেন। এসব অভিযোগ পুরোপুরি সত্য ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; তবে এই ধারণাটিই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব এবং কেন্দ্রের অভিবাসন নীতির সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যের ফলে বর্তমানে আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।
এর ফলস্বরূপ সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক ও ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের কোনো গুরুতর নীতিই এই অধিকারকে অস্বীকার করে না। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন নির্ধারণ করতে হয়, কোন ব্যক্তি সত্যিই বিদেশি নাগরিক এবং তাকে কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাউকে ফেরত পাঠানো মানে কেবল তাকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ওপারে চলে যেতে বলা নয়। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই এবং গ্রহণকারী রাষ্ট্রের সম্মতি অপরিহার্য। কেবলমাত্র কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক বলে মনে করার ভিত্তিতে তাকে সেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে একতরফা ‘পুশব্যাক’ আইনি অনিশ্চয়তা এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের অবস্থানও ক্রমশ এই নীতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। ঢাকা বারবার বলেছে, সীমান্তে আনা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা আবশ্যক। নথিপত্র ছাড়া কিছু ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে বিজিবির অস্বীকৃতি এই নীতিরই অংশ। বাংলাদেশের আশঙ্কা, যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করলে এমন একটি নজির তৈরি হতে পারে, যেখানে অনিশ্চিত পরিচয়ের মানুষদের সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এই মতবিরোধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে মাঝখানে আটকে পড়া মানুষদের। নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা একজন ব্যক্তি কার্যত সুরক্ষাহীন হয়ে পড়েন। তাদের অনেকেরই খাবার, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং আইনি সহায়তার সুযোগ থাকে না। নারী, শিশু এবং প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাদের কাছে সার্বভৌমত্ব বা অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক নয়, বরং বেঁচে থাকা এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্রূপাত্মকভাবে, এই সংকট এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিদ্যমান। গত দুই দশকে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ, বন্দি বিনিময় এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত অসংখ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা সীমান্তপারের অপরাধী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছিল।
তবে প্রত্যর্পণ এবং বহিষ্কার সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রমাণপত্র এবং আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন মূলত অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা ও নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিষয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত হলেও, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমান উত্তেজনা এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। যখন পারস্পরিক আস্থা কমে যায় বা নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তখন ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে। যেসব ব্যক্তি নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেন না, তারা এমন অবস্থায় পড়েন যেখানে দুই দেশই তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে আইনি অর্থে রাষ্ট্রহীন না হলেও কার্যত রাষ্ট্রহীনতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রতীকী ছবি
এই সমস্যা শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বহিষ্কার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিকবার বিরোধ দেখা দিয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং বিতর্কিত নাগরিকত্ব দাবির কারণে একই ধরনের সংকট মোকাবিলা করেছে। এসব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ফেরত পাঠানোর আগে অবশ্যই নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। উন্নত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে যৌথ নাগরিকত্ব যাচাই, বায়োমেট্রিক ডেটাবেস, কনস্যুলার সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। গ্রহণকারী রাষ্ট্র দায়িত্ব স্বীকার করার পরেই কাউকে ফেরত পাঠানো হয়। এসব ব্যবস্থা জটিল ও আমলাতান্ত্রিক মনে হলেও মানবিক সংকট এবং কূটনৈতিক সংঘাত অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
ইউরোপের ‘রিডমিশন এগ্রিমেন্ট’ বা পুনর্গ্রহণ চুক্তিগুলিও একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এসব চুক্তির আওতায় নাগরিকদের শনাক্তকরণ ও গ্রহণের জন্য বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারিত থাকে। যৌথ কমিটি বিতর্কিত মামলাগুলি পর্যালোচনা করে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করে, যাতে কেউ দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে। উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশেও অনুরূপ ব্যবস্থা রয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশের জন্যও অনুরূপ একটি ব্যবস্থা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। অনথিভুক্ত অভিবাসন নিয়ে বিশেষভাবে একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। যৌথ যাচাইকারী দল বিতর্কিত মামলাগুলি পর্যালোচনা করতে পারে। ডিজিটাল ডেটাবেস এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাই দ্রুততর করা সম্ভব। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা গেলে সীমান্তে মুখোমুখি উত্তেজনার সম্ভাবনা কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানবিক পরিবেশসম্পন্ন ট্রানজিট কেন্দ্রে রাখা উচিত; সীমান্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় নয়।
দুই সরকারকেই উপলব্ধি করতে হবে যে অভিবাসনকে কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক সুযোগ, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের চলাচল হয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমিক চলাচল এবং সীমান্ত অঞ্চলের প্রশাসনিক উন্নয়নেও সহযোগিতা প্রয়োজন।
দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত এই জটিল মানবিক সমস্যাকে দলীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা। অবৈধ অভিবাসন নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়াও হতে হবে প্রমাণভিত্তিক, আইনি প্রক্রিয়াসম্মত এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
সাম্প্রতিক সীমান্ত অচলাবস্থা তাই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, নজির হিসেবে নয়। ভারত ও বাংলাদেশ বহু দশক ধরে যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তা দুই দেশের জন্যই উপকারী হয়েছে। অনিষ্পন্ন অভিবাসন-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সেই অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে দূরদর্শিতার অভাব। বিএসএফ এবং বিজিবির মাঝখানে আটকে থাকা মানুষগুলো কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতীক নয়; তারা এমন এক নীতিগত সংকটের মানবিক মুখ, যার সমাধানে প্রয়োজন প্রজ্ঞা, সংযম এবং সহযোগিতা।
সীমান্ত রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করে, কিন্তু মানবতাকে কখনও মুছে দিতে পারে না। নয়াদিল্লি ও ঢাকার সামনে আজকের চ্যালেঞ্জ কেবল মানুষ কোথায় অন্তর্ভুক্ত তা নির্ধারণ করা নয়; বরং নিশ্চিত করা যে কেউ যেন এমন অবস্থায় না পড়ে, যেখানে তার কোনো ঠিকানা, কোনো স্বীকৃতি, কোনো আশ্রয়ই অবশিষ্ট থাকে না।
(লেখক অসম সরকারের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিচালক; অসম লোকসেবা কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি এবং 'আওয়াজ- দ্য ভয়েস অসম'-এর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা)