প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় বদলে যেতে পারে আপনার ভাগ্য, জামানত ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় বদলে যেতে পারে আপনার ভাগ্য, জামানত ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় বদলে যেতে পারে আপনার ভাগ্য, জামানত ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ
 
মালিক আসগর হাশমি

আপনি কি নিজের একটি ছোট শিল্প বা ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখছেন? ছাগল পালন, মুরগি পালন কিংবা মৌমাছি চাষের মতো উদ্যোগে হাতেখড়ি করতে চান? কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও মূলধনের অভাবে সেই স্বপ্ন অনেক সময় বাস্তবের মুখ দেখে না। তবে এখন আর চিন্তার কারণ নেই। দেশে দক্ষ ও উদ্যোগী মানুষদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনা, দেশের যুবসমাজ শুধু চাকরিপ্রার্থী হয়ে থাকবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই কেন্দ্র সরকার চালু করেছে ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’ (PMMY)। এই প্রকল্প আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

সবচেয়ে বড় সুখবর হল, এই প্রকল্পের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা এখন দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যেখানে সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেত, এখন তা বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। যারা বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এটি এক বিরাট সুযোগ। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৪–২৫-এ অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা করেছিলেন এবং ২৪ অক্টোবর ২০২৪ থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
 
এই প্রকল্প দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও এই প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারেন। আপনার যদি কিছু করার আগ্রহ থাকে এবং একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকে, তবে নির্দ্বিধায় প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই প্রকল্প আপনাকে আত্মনির্ভর করে তোলার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সক্ষম করে তুলবে।
 
 
মুদ্রা যোজনার চারটি বিভাগ: ব্যবসার প্রতিটি ধাপে আপনার পাশে
 
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার সূচনা হয় ৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে। এর মূল উদ্দেশ্য হল অ-কর্পোরেট, অ-কৃষি ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই প্রকল্পে ঋণ চারটি বিভাগে দেওয়া হয়, যা ব্যবসার বিকাশের বিভিন্ন স্তরকে প্রতিনিধিত্ব করে।
 
১. শিশু ঋণ (Shishu Loan): যাঁরা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য এই বিভাগ। এর আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। ছোট ব্যবসার প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য এটি একটি অত্যন্ত উপযোগী বিকল্প।
 
২. কিশোর ঋণ (Kishor Loan): যদি আপনার ব্যবসা ইতিমধ্যেই চলমান থাকে এবং সেটিকে আরও কিছুটা সম্প্রসারণ করতে চান, তবে এই বিভাগ আপনার জন্য। এখানে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়।
৩. তরুণ ঋণ (Tarun Loan): যাঁদের ব্যবসা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরা সেটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য এই বিভাগ। এর আওতায় ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়।
৪. তরুণ প্লাস ঋণ (Tarun Plus Loan): এটি মুদ্রা যোজনার সর্বশেষ এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিভাগ। এর আওতায় ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। এই ঋণ বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁরা আগে ‘তরুণ’ বিভাগে ঋণ নিয়ে তা সফলভাবে পরিশোধ করেছেন। এই বিভাগ ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
 
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ
 
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অসাধারণ সুযোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন, ব্যবসা, পরিষেবা খাত এবং কৃষি-সম্পর্কিত কার্যকলাপ যেমন, মুরগি পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, মৌমাছি পালন ইত্যাদির জন্য ঋণ নেওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঋণের জন্য কোনও ধরনের গ্যারান্টি বা জামানত দিতে হয় না।
 
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্যোক্তারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে শুধু নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবেন না, বরং নিজেদের সম্প্রদায়ের অন্যান্য মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। সমাজের প্রতিটি শ্রেণিকে অর্থনৈতিক মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে সংখ্যালঘু ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে শিশু বিভাগে ১৫,৭৫৯.৬৬ কোটি টাকা, কিশোর বিভাগে ২০,৭৬৬.৩ কোটি টাকা এবং তরুণ বিভাগে ৮,৫৬২.২৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন।
 
মুদ্রা কার্ড ও মুদ্রা মিত্র অ্যাপ: ঋণ পাওয়া এখন আরও সহজ
 
এই প্রকল্পকে আরও সহজ ও সুলভ করতে সরকার একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 
* মুদ্রা কার্ড: এটি একটি রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ড, যা ঋণগ্রহীতাকে ওভারড্রাফট সুবিধার মাধ্যমে কার্যকরী মূলধন ব্যবহার করতে সহায়তা করে। এই কার্ড ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তোলা কিংবা পিওএস (POS) মেশিনে কেনাকাটা করা যায়। এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং সুদের খরচও কমে।
 
* মুদ্রা মিত্র অ্যাপ: এটি একটি মোবাইল অ্যাপ, যেখানে মুদ্রা যোজনা এবং এর বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এই অ্যাপ ঋণপ্রত্যাশীদের ব্যাংকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেয়। এছাড়া এতে নমুনা ঋণ আবেদনপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্যও উপলব্ধ রয়েছে।
 
কীভাবে আবেদন করবেন?
 
মুদ্রা ঋণের জন্য আপনি যে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক (RRB), ক্ষুদ্র অর্থায়ন ব্যাংক (SFB), মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান (MFI) এবং নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানি (NBFC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। অনলাইনেও আবেদন করা যায়। এর জন্য www.udyamimitra.in⁠� পোর্টাল ব্যবহার করা যেতে পারে। ঋণের আবেদনপত্রকে আরও সহজ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংকে মুদ্রা নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।
 
উপসংহার: আত্মনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ
 
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা দেশে উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। এই প্রকল্প আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের যুবসমাজ, বিশেষ করে নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঋণের সীমা ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে এবং দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
 
“এই দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ নারী-পুরুষ, যারা ছোটখাটো ব্যবসা পরিচালনা করেন, অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থেকে গিয়েছিলেন। মুদ্রা হল বঞ্চিতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এক অভিনব উদ্যোগ।” - প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
 
দৃঢ় সংকল্প নিন, সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার সুবিধা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিন। আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এই প্রকল্প আপনার অন্যতম শক্তিশালী সহযাত্রী হয়ে উঠতে পারে।