১৬ অগাস্ট ‘খেলা হবে দিবস’-এর বদলে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’: মুখ্যমন্ত্রী

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 18 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
কলকাতা: 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনস্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-কে স্মরণ করে আগামী ১৬ অগাস্ট রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালন করা হবে। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের চালু করা ‘খেলা হবে দিবস’ পালনের প্রথার অবসান ঘটবে।

এদিনই রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে বিজেপির একটি বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১৬ অগাস্ট কলকাতার ইতিহাসে একটি কালো দিন। কারণ, এই দিন থেকেই সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর সূচনা হয়েছিল। আগের তৃণমূল সরকার দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালন করত। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে দিনটি ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। খুব শীঘ্রই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হবে।”

তিনি ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের ডাকা ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের আগে পাকিস্তানের দাবিকে জোরদার করতে সাধারণ ধর্মঘট ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি দ্রুত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়, যা ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

কয়েক দিন ধরে চলা ওই দাঙ্গায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই আনুমানিক ৪ হাজার মানুষ নিহত, ১০ হাজারের বেশি আহত এবং কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ইতিহাসবিদদের মতে, এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ভারত বিভাজনের পথকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল। সে সময় অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় স্মরণে এবং যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ১৬ অগাস্টকে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যজুড়ে ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হতো।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১৬ অগাস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।তিনি বলেন, “যাঁদের বয়স ৭০ বছরের বেশি, তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এছাড়া অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ উপভোক্তা অন্তর্ভুক্ত হবেন। বাকি ৩০ শতাংশকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। দুটি প্রকল্পই একসঙ্গে চালু করা হবে।”

অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় কিছু মহিলা এখনও সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাননি—এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিরাই সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।তিনি জানান, “অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন। আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হবে।”

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং রীতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী—দু'পক্ষই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং তারা পর্যাপ্ত প্রার্থীও খুঁজে পাবে না।তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে আমাদের জয় নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমি সেখানে প্রায় ৯,৭০০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছি, যা ২০২১ সালের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি ব্যবধান।”



শেহতীয়া খবৰ