দেবকিশোর চক্রবর্তী
অসমের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা অভিজিৎ মজুমদার। তৃণমূল কংগ্রেসের আসাম শাখার মিডিয়া সেলের চেয়ারপারসন পদে থাকা এই নেতা শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অভিজিৎ মজুমদার। নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজের মতো করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় নীতি এবং নেতৃত্বের একাংশের কার্যকলাপ নিয়ে তাঁর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন অভিজিৎবাবু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে “মুসলিম তোষণ” এবং ধর্মীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ। তিনি অভিযোগ করেন, দল বর্তমানে এমন এক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে ভোটের সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এই ধরনের রাজনীতি সামাজিক বিভাজন বাড়িয়ে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করছে।শুধু দলীয় নীতির বিরুদ্ধেই নয়, আসামের তৃণমূল বিধায়ক শেরমিন আলীর আচরণ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে চাননি অভিজিৎ মজুমদার, তবুও তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দলত্যাগের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি। অভিজিৎ মজুমদার জানান, আগামী দিনে তিনি জনমুখী এবং সমাজকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। একই সঙ্গে তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন।সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যদি সম্মানজনক জায়গা এবং মানুষের জন্য কাজ করার উপযুক্ত সুযোগ পাই, তাহলে বিজেপির সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করব।”
অভিজিৎ মজুমদারের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসামে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ, বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ এবং বিজেপির সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।