মস্কোয় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরাম এবং নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধিদের ১৪তম বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
মস্কো
অজিত ডোভাল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই লড়াইয়ে কোনও “দ্বিচারিতা” চলতে পারে না। বৃহস্পতিবার মস্কোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রথম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরাম এবং নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধিদের ১৪তম বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকের আয়োজন করেন সের্গেই শোইগু।অজিত ডোভাল বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই। দায়িত্বশীল দেশগুলিকে ঠিক করতে হবে তারা সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের পাশে থাকবে, নাকি কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের মোকাবিলা করবে।”অজিত ডোভাল আরও বলেন, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত আন্তর্জাতিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেগুলি আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংস্কারে “গ্লোবাল সাউথ”-এর দেশগুলিকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব দিতে হবে।পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অজিত ডোভাল বলেন, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর-সহ আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোরামের ফাঁকে তিনি তাঁর রুশ সমকক্ষ সের্গেই শোইগুর সঙ্গে বৈঠকও করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।এছাড়াও, BRICS জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের আসন্ন বৈঠক, যা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে, তার প্রস্তুতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই আধিকারিক।
অজিত ডোভাল-এর এই রাশিয়া সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে ঘিরে বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।যদিও এখনও পর্যন্ত BRICS জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথগুলির মধ্যে অন্যতম। এই রুটগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলেছে, জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে বুধবার সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর সাইপ্রাসে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং “স্থায়ী ও সর্বাত্মক শান্তি” প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর আন্দ্রি সিবিহা বলেন, “ইউরোপ যখন আরও বড় দায়িত্ব নিচ্ছে, তখন ভারতের শক্তিশালী মতামত ও ভূমিকা আমরা স্বাগত জানাই।”ভারত বরাবরই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে সওয়াল করেছে এবং একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।