কলকাতা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বার অন্যরকম ঈদের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বহু বছরের প্রথা ভেঙে রেড রোডের বদলে ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত হল ঈদের প্রধান জামাত। শুধু তাই নয়, শহর ও শহরতলির কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেই এ দিন ঈদের নামাজের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার অধিকাংশ রাস্তা ছিল স্বাভাবিক ও যানজটমুক্ত।
তবে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও খামতি রাখতে চায়নি প্রশাসন। ব্রিগেড ময়দান-সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। কলকাতা পুলিশের তরফে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি এবং বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ টহলও জোরদার করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার রেড রোড চত্বরে বছরে দু’বার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে তৃণমূল সরকারের আমলে সেই আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব পায়। নামাজের মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরবর্তী সময়ে সেই মঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যায়।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সরকার বদলের সঙ্গে প্রশাসনিক অবস্থানেও আসে পরিবর্তন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরি করে রাস্তা আটকে কোনও ধর্মীয় সমাবেশ হতে দেওয়া হবে না। এরপর থেকেই রেড রোডে এ বার ঈদের নামাজ হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবান্ন জানিয়ে দেয়, এ বছর ব্রিগেড ময়দানেই অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্রিগেডে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার মুসল্লি। শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় নামাজ পাঠ।
তবে এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত আরও আগে। সূত্রের খবর, গত বছরই ‘খিলাফত কমিটি’-কে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভবিষ্যতে রেড রোডে আর ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেনার কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রেড রোডে ঈদের জামাত শুরু হওয়ার আগে শহিদ মিনার ময়দানেই নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু বর্ষাকালে জল জমা ও কাদার সমস্যার কারণে পরে সেই আয়োজন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রেড রোডে। কয়েক দশক পর আবার সেই ঐতিহ্যে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল কলকাতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, নতুন সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারেরও স্পষ্ট প্রতিফলন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, রাস্তা খোলা থাকায় ঈদের দিন শহরে যাতায়াত অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ছিল।