ঈদের অনুষ্ঠানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি জনজাতি মিলেমিশে একাকার

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
ঈদের অনুষ্ঠানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি জনজাতি মিলেমিশে একাকার
ঈদের অনুষ্ঠানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি জনজাতি মিলেমিশে একাকার
নূরুল হক, আগরতলা :

"ভারতের সৌন্দর্য হলো হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সৌভাতৃত্ব। ভারতের সৌন্দর্য তার বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। ভারতের এই সুন্দর্যকে রক্ষা করতে হবে। দেশের সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে। " বৃহস্পতিবার ঈদুল আযহা তথা কুরবানী ঈদ উপলক্ষে আগরতলায় অনুষ্ঠিত ঈদের কেন্দ্রীয় জামাতে এই আহ্বান রাখেন মৌলানা আব্দুর রহমান।
 

মৌলানা আব্দুর রহমান বলেন ইসলামে উল্লেখ রয়েছে অন্য ধর্মের দেবতা এবং গুরুদের নাম নেওয়ার ক্ষেত্রে ইজ্জতের সাথে নিতে হবে।" রামের" কথা উল্লেখ করলে "রামজি" বলতে হবে। "কৃষ্ণের" কথা বললে "কৃষ্ণা জি" বলতে হবে। ইসলামের আদর্শ এবং শিক্ষা হলো অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। ধর্মীয় সম্প্রতি এবং ভাই ছাড়া বজায় রাখতে ঈদের নামাজ থেকে জুড়ালো আওয়াজ তুলেছেন মাওলানা রহমান সাহেব। প্রসঙ্গত গোটা দেশের সাথে এদিন ত্রিপুরাতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ উৎসব। ঈদকে কেন্দ্র করে একদিন আগে থেকেই শুভেচ্ছা বার্তা বইতে দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে।
 
 
 
ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক মানিক সাহা পৃথক পৃথকভাবে ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তারা ত্যাগ এবং তিতিক্ষার কুরবানী ঈদে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেন। পাশাপাশি অধিকাংশ নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেন।
 
হিন্দু মুসলিম জাতি জনজাতির লোকেরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা আদান প্রদান করেন। ঈদের দিনে সকাল থেকেই বিভিন্ন মসজিদ এবং ঈদগাহ গুলিতে ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের পাশাপাশি বিভিন্নস্থানে ঈদগাহে অমুসলিমদেরও দেখা গেছে মুসলিমদের সাথে ঈদের মাঠে সামিল হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। ঈদের নামাজের পর ধর্মপ্রাণরা বাড়ি ঘরে পশু কুরবানী করেন এবং সেই কুরবানী করা পশুর মাংস সমাজের গরীব অংশের মধ্যে বিলিয়ে দেন।
 
 
 
জাতি জনজাতি হিন্দু-মুসলিম অংশের লোকেরা একে অপরে বাড়ি ঘরে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা এবং আনন্দ উপভোগ করেছেন। আগরতলায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী গেদু মিয়া মসজিদের ঈদগাহে। সেখানে ঈদের নামাজ পাঠ করান মৌলানা আব্দুর রহমান। নামাজ পাঠের পর তিনি বয়ান করতে গিয়ে সম্প্রীতি এবং সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা ছাড়িয়া দেন। তিনি মুসলিম সহ সমাজের সমস্ত অংশের নাগরিকদের আহ্বান জানান দেশের সংবিধান অনুযায়ী বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে ধরে রাখতে।
 
একইভাবে নামাজের পর মুনাজাত তুলে দেশ এবং বিশ্বের শান্তি কামনা করেন। অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে ধর্মীয় পর্বের বাইরে বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল গুলিতে ফল মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনকে। সব মিলিয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় সম্প্রীতের উৎসবের চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে কোন ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।