নয়াদিল্লি:
ভারতের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের হার বেড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৬ (NFHS-6) অনুযায়ী, এই হার ২০১৯-২১ সালে ৭৭.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৭৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে।
কেন্দ্র সরকারের রাষ্ট্রীয় কিশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচি (RKSK)-র আওতায় মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন স্কিম (MHS) এবং প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি প্রকল্পে সাশ্রয়ী মূল্যের স্যানিটারি পণ্য সরবরাহের ফলে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা, সহজলভ্যতা এবং ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯-২১ সালে যেখানে মাত্র ৩৩.৩ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছিলেন, ২০২৩-২৪ সালে সেই হার বেড়ে ৬৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
এছাড়া নারীদের ব্যাংক বা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের মালিকানা বেড়ে ৭৮.৬ শতাংশ থেকে ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে নিজস্ব মোবাইল ফোন থাকা নারীর হার ৫৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, NFHS-6-এর তথ্য নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক ক্ষমতায়নের ধারাবাহিক অগ্রগতি তুলে ধরেছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তবে একইসঙ্গে অ-সংক্রামক রোগ, জীবনযাত্রাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি ও স্থূলতার মতো নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে, যা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুষম পুষ্টির উপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এই ফলাফলগুলি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের পথে ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন।NFHS-6 সমীক্ষা ২০২৩-২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে পরিচালিত হয়। মুম্বইয়ের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস (IIPS) ছিল এর নোডাল সংস্থা। দেশের ৭১৫টি জেলার প্রায় ৬.৭৯ লক্ষ পরিবারকে এই সমীক্ষার আওতায় আনা হয়, যা জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবারকল্যাণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে।