গ্রাম থেকে ইসরোর বিজ্ঞানী! অল ইন্ডিয়া ২৩-তম স্থান অর্জন করে ইসরো-র বিজ্ঞানী আল-আমীন মিশনের প্রাক্তনী আবু হাসান গাজী

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 9 h ago
গ্রাম থেকে ইসরোর বিজ্ঞানী! অল ইন্ডিয়া ২৩-তম স্থান অর্জন করে ইসরো-র বিজ্ঞানী আল-আমীন মিশনের প্রাক্তনী আবু হাসান গাজী
গ্রাম থেকে ইসরোর বিজ্ঞানী! অল ইন্ডিয়া ২৩-তম স্থান অর্জন করে ইসরো-র বিজ্ঞানী আল-আমীন মিশনের প্রাক্তনী আবু হাসান গাজী
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ইসরোর বিজ্ঞানী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার প্রত্যন্ত উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসান গাজী। এই মেধাবী সন্তান একসময় লড়াই করেছেন অভাবের সঙ্গে। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। বাবার কর্মক্ষমতা হারানোর পর সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। সেই ঘরের ছেলেই আজ ভারতের মহাকাশ গবেষণার সর্বোচ্চ কেন্দ্র ‘ইসরো’র (ISRO) বিজ্ঞানী।
 
আবু হাসান গাজী যেন বাংলার গর্বের মুকুটে নতুন পালক জুড়ে দিলেন। সর্বভারতীয় স্তরে ২৩-তম র‍্যাঙ্ক (AIR 23) ছিনিয়ে নিয়ে গোটা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন আল-আমীন মিশনের এই প্রাক্তন ছাত্র। তাঁর এই স্বপ্ন ছোঁয়ার জার্নি কেমন ছিল জানলে শিহরণ জাগবে। 
 

আবু হাসানের বাবা আব্দুর রশিদ গাজী, আর মা হাসনাবানু গাজী শত অভাবেও ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই আবু হাসানের তার প্রথম ভিত তৈরি হয়েছিল মজিলপুর জে এম ট্রেনিং স্কুলে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কৃতি সন্তানের মেধার আসল বিকাশ ঘটে আল-আমীন মিশনের সৌজন্যে। জানা যায়, সপ্তম শ্রেণিতে নামমাত্র ফি-তে মিশনের সম্পাদক এম. নুরুল ইসলাম তাঁকে খলতপুর শাখায় ভর্তি নেন।
 
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মিশনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ আর নিজের অদম্য অধ্যবসায়ের জোরে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে নিতে থাকেন আবু হাসান। তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে, ২০১৭ সালে মাধ্যমিকে ৯০% নম্বর। এরপর জগদীশ বোস জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিভা অনুসন্ধান পরীক্ষায় জুনিয়র স্কলারশিপ লাভ করেন তিনি। ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৮১%। ৩৯৩ র‍্যাঙ্ক করে আল-আমীন মিশনের রানিং ব্যাচের সেরা ছাত্র হিসেবে সুযোগ পেয়ে পড়তে চলে যান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
 
আবু হাসান গাজী
 
২০২৩ সালে যাদবপুর থেকে বি.ই. শেষ করে আবু হাসান যোগ দেন আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর সংস্থা 'Texas Instruments'-এ। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই মেধাবী ছাত্রের। বর্তমানে আইআইটি দিল্লি(IIT Delhi)-তে ২০২৫-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এম. টেক গবেষণার পাশাপাশিই ইসরোর কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় এই ঐতিহাসিক সাফল্য কার্যত নতুন নজির তৈরি করল। 
 
মিশনের খলিশানি শাখার সুপারিন্টেনডেন্ট সেখ আনিসুর রহমান আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন,  মিশনের প্রাক্তন ছাত্র আবু হাসানের পড়ার পরিকল্পনা, বিনয়ী আচরণ তাঁকে অন্য সকলের চেয়ে আলাদা করে রেখেছিল। বলা যায়, কোনো সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকার অদম্য মানসিকতাই আবু হাসানকে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
 
প্রতীকী ছবি
 
আবু হাসানের এই সাফল্যের খবর জানার পর আল-আমীন মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম. নুরুল ইসলাম বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সার্থকতা তখনই হয় যখন পড়ুয়ারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় যুক্ত হয়ে জাতির সেবা করে। তখনই  পূর্ণতা পায় আমাদের এই শিক্ষাদান। 
 
প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তান হয়েও আইআইটি দিল্লি হয়ে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোর বিজ্ঞানী হওয়ায় এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না আবু হাসান গাজীর কাছে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, লক্ষ্য আর অদম্য ইচ্ছা থাকলে কোনো দারিদ্র্যই মেধার অগ্রগতিকে আটকে রাখতে পারে না।