বিধবার সঙ্গে কি হয়েছিল? ‘টাকা ফেরত দাও, নইলে...’, ঝাঁটা-তির হাতে তৃণমূল সভাপতির দুয়ারে জনরোষ আদিবাসী মহিলাদের
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন গোটা এলাকার আদিবাসী সমাজ। দীর্ঘদিন ধরে এই নেতার শোষণ, নিপীড়ন আর সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে অবশেষে ফুঁসে উঠল আদিবাসী মহিলা-পুরুষ সকলেই। কাটমানি ফেরত চেয়ে এবার সরাসরি তৃণমূল নেতার বাড়িতে তির-ধনুক, ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করলেন তারা। এতদিনের ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ল জনরোষে। অভিযুক্ত তৃণমূলের বুথ সভাপতি সিরাজ মোল্লার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ। ওই নেতার ‘কুকীর্তি’-র অভিযোগের কথা তুলে ধরে প্লাকার্ডও দেখা গেল তাদের হাতে। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিগের আটি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনকালে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীদের ওপর নানাভাবে নিপীড়ন চালিয়েছেন এই সিরাজ মোল্লা। অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি ও উন্নয়নমূলক কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দরিদ্র আদিবাসী পরিবারগুলির কাছ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা কাটমানি নিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।
এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মহিলারা। এক আদিবাসী মহিলা ক্ষোভের সুরে বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনে ২ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। সিরাজ সেখান থেকেও জোর করে ৫০ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। অন্য এক আন্দোলনকারীর অভিযোগ, সিরাজের জুলুম থেকে রেহাই পাননি কেউ। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, তো কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়া হয়েছে।
ফুঁসে উঠল আদিবাসী মহিলা-পুরুষ
স্থানীয়দের অভিযোগ থেকে জানা গেল, গৃহহীনদের জন্য সরকারি ঘর থেকে শুরু করে সরকারের দেওয়া বার্ধক্য ভাতা, সব কিছুতেই কাটমানির থাবা বসিয়েছেন এই বুথ সভাপতি। আদিবাসি সমাজের এই বিক্ষোভ চরমে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাড়োয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দেখা গেল, পুলিশকে ঘিরেও ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। তাঁদের দাবি, কাটমানির প্রতিটা পয়সা ফেরত দিতে হবে ওই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে। পাশাপাশি অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে।
তৃণমূলের জামানায় সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল শিবির এবার আরও অস্বস্তিতে পড়েছে। গ্রামের এই দাপুটে নেতার ‘কুকর্ম’ এবার যেভাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তাতে দলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের প্রতি আদিবাসী সমাজের এই রণচণ্ডী রূপ আগামী দিনে হাড়োয়ার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।