মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? বর্ধমান থেকে জইশ জঙ্গি গ্রেপ্তার, বড় দাবি STF-এর
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে STF। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
STF সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং কমপ্লেক্স-এর একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে গত কয়েক মাস ধরে আত্মগোপন করে ছিল হামিদ মণ্ডল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার স্ত্রী, এক কন্যা এবং দুই পুত্রও ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন কর্মসূচি, সফরসূচি এবং ভিআইপি চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। এই নথিগুলি কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এগুলি সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
STF-এর প্রাথমিক তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, হামিদ মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল সাজ্জাদ ভাট-ঘনিষ্ঠ জইশ নেটওয়ার্কের সঙ্গে। উল্লেখ্য, সাজ্জাদ ভাটকে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই হামলায় ৪০ জনেরও বেশি সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, হামিদ দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছিল এবং পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে তার মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি একা কাজ করছিলেন, নাকি বড় কোনও জঙ্গি চক্রের অংশ—তাও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য প্রশাসন। STF এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ তদন্তে সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক, সহযোগী এবং ষড়যন্ত্রের পরিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য: তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং জঙ্গি-যোগ সংক্রান্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থার দাবি; আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলি প্রমাণিত বলে গণ্য করা যায় না।