হাসনাবাদের মাদ্রাসায় উত্তরপ্রদেশ এটিএসের তল্লাশি! এই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত আব্দুল্লাহ গাজীর বাড়িতেও তল্লাশি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া, দেগঙ্গা এবং হাসনাবাদ এলাকায় একযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর ম্যারাথন তল্লাশি। তদন্তকারীদের এই তৎপরতা দেখে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকাজুড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল থেকেই গোটা এলাকায় এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় থানার পুলিশ তরফে। খারিজি মাদ্রাসা, বেসরকারি হাসপাতাল ও একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি মুদ্রা ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগেই যোগী রাজ্যের পুলিশের এই অভিযান বলে খবর মিলেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর দারুল উলুম খারিজি মাদ্রাসায় আচমকাই হানা দেয় উত্তরপ্রদেশের এটিএস আধিকারিকরা। মাদ্রাসা চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি এই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত আব্দুল্লাহ গাজী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতেও তল্লাশি চালায় এটিএস। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ গাজী আগে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় নানা সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর কোনো দেশবিরোধী কাজের সঙ্গে যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে রীতিমত ধোঁয়াশায় রয়েছেন এলাকাবাসীরা।
অন্য দিকে, হাড়োয়া এবং দেগঙ্গা থানার একাধিক এলাকায় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট অর্থ্যাৎ ইডি অভিযানে নেমেছে। মূলত একটি ট্রাস্টের অধীনে থাকা বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন সহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসার অভিযোগে এই তল্লাশি চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। তিন ভাগে ভাগ হয়ে চলছে এই তদন্ত।
কালিকাপুরের দুটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পণ্ডিতপোল এলাকার একটি বয়েজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চলছে। এছাড়া হাড়োয়ার মল্লিকপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ওই ট্রাস্টের আরও একটি শাখায় অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে বিশেষ সূত্রে।সূত্র মারফৎ জানা গেছে, এই বেসরকারি হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসার ট্রাস্টের কর্ণধর আব্দুস সামাদ-এর জামাই এর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। অভিযোগ, এই ট্রাস্টে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আসতো। তাঁর সূত্র ধরেই এই বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের হদিশ পান তদন্তকারীরা।
সেই তদন্তে গতি বাড়াতে আজকের এই যৌথ তৎপরতা বলে জানা গেছে। এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা তৈরি হতেই গোটা জেলা জুড়েই থমথমে পরিস্থিতির পাশাপাশি নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।