ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-তে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের পদত্যাগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে গগনযান-সহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছা অবসর (VRS) ও পদত্যাগের আবেদন আর নিয়মিতভাবে অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহাকাশ বিভাগ (Department of Space)।
সম্প্রতি জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (URSC), বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (VSSC), সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার (LPSC), স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার (SAC), ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC), ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক (ISTRAC) এবং মাস্টার কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটিস (MCF)-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে কর্মরত গ্রুপ-‘এ’ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন এখন থেকে বিশেষ বিবেচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের সুপারিশ ছাড়া কোনো আবেদন চূড়ান্ত হবে না।
মহাকাশ বিভাগের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গগনযান ও অন্যান্য কৌশলগত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানী ইসরো ছেড়েছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও সময়সীমা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই মানবসম্পদ ধরে রাখতে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী ইসরো থেকে পদত্যাগ করেছেন। সবচেয়ে বেশি পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার এবং তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে গগনযান অভিযানে ব্যবহৃত এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীও রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালে ভারতের মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। বর্তমানে দেশে ৪০০-রও বেশি মহাকাশ স্টার্টআপ কাজ করছে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, ধ্রুবা স্পেস ও বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেসের মতো সংস্থাগুলি বেশি বেতন, আধুনিক গবেষণার সুযোগ এবং দ্রুত কর্মজীবনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেওয়ায় অনেক দক্ষ বিজ্ঞানী সরকারি সংস্থা ছেড়ে বেসরকারি খাতে যোগ দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে ইসরোর সামনে রয়েছে একাধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। গগনযান মানব মহাকাশ অভিযান, চন্দ্রযান-৪, ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (BAS) এবং মঙ্গলযান-২-এর প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি উৎক্ষেপণে প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় সংস্থার ওপর চাপও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের নিয়ম কঠোর করা সাময়িকভাবে বিজ্ঞানীদের বহির্গমন কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ মানবসম্পদ ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন, উন্নত গবেষণা পরিকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ এবং গবেষণার স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হবে ইসরোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।