স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটায় চুরির ঘটনা, সিসিটিভিতে ধরা সন্দেহভাজন; তদন্তে নেমেছে পুলিশ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটায় চুরির ঘটনা, সিসিটিভিতে ধরা সন্দেহভাজন; তদন্তে নেমেছে পুলিশ
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটায় চুরির ঘটনা, সিসিটিভিতে ধরা সন্দেহভাজন; তদন্তে নেমেছে পুলিশ

কলকাতা: 

উত্তর কলকাতার সিমলায় অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের এই শাখা কেন্দ্রের প্রার্থনা গৃহ থেকে কয়েকটি ফ্যান, মূল্যবান চেয়ার-সহ কিছু সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

মঠের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ জানান, ঘটনার পরই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিউজিয়ামে সংরক্ষিত স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক সামগ্রী অক্ষত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মিউজিয়ামের সংগ্রহে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

পুলিশ ও মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এক ব্যক্তি মঠে এসে দাবি করেন, স্থানীয় বিধায়কের নির্দেশে রথযাত্রা উপলক্ষে মঠের বাইরের দেওয়ালে ব্যানার লাগাতে এসেছেন। মঠ কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায়, ব্যানারের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করার পরই অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান।

পরবর্তীতে মঠের কর্মীরা দেখতে পান, প্রার্থনা গৃহ থেকে কয়েকটি আসবাবপত্র নিখোঁজ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্যানার লাগানোর কথা বলে আসা ওই ব্যক্তিকেই মঠ থেকে কয়েকটি চেয়ার নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। এই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।

পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিকল্পনা করেই মঠে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে চুরির ঘটনা ঘটান। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে তাঁর গতিবিধি ও পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটা দেশ-বিদেশের বহু দর্শনার্থীর কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এখানে তাঁর ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন এবং জীবন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। তাই এই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা শুধু চুরির অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়েও মঠ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।