বাংলায় UCC, ‘ল্যান্ড জিহাদ’-বিরোধী আইন! এক মঞ্চে একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
বাংলায় UCC, ‘ল্যান্ড জিহাদ’-বিরোধী আইন! এক মঞ্চে একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
বাংলায় UCC, ‘ল্যান্ড জিহাদ’-বিরোধী আইন! এক মঞ্চে একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
 
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং ধর্মান্তরণ রোধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 'ল্যান্ড জিহাদ', 'লাভ জিহাদ' এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রণয়নের ঘোষণা থেকে শুরু করে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC), CAA এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
 
শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী এবং রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বাংলায় কঠোর আইন চালু হবে। এই সরকার প্রয়োজনীয় কঠিন আইন আনবে।”
 
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গেও আগামী দিনে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরির কথাও উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা খোলা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে ভারতীয় ও সনাতন সংস্কৃতির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ, ধর্মান্তরণ বা অন্য কোনও জিহাদি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের ওই হোল্ডিং স্টেশনে রেখে পরবর্তীতে যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে আরও সুরক্ষিত করতেই সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং শরণার্থী। তাঁদের ভারত মাতার কোলে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ‘বন্দে মাতরম্’ প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে গাওয়ার নির্দেশের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই স্কুল, কলেজ এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে চালু হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেকেই দাঁড়িয়ে গান শুনছেন, তবে যাঁদের ঠোঁট নড়ছে না, ভবিষ্যতে সেই বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।
 
এদিন সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। সেনাবাহিনীকে অপমান করা, দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।