ভাইরাল ভিডিও দেখে আবেগাপ্লুত আনন্দ মাহিন্দ্র, সাহায্যের প্রস্তাব ৮০ বছরের বেহালাবাদককে
আওয়াজ দ্য ভয়েস, বাংলা
কখনও কখনও একটি ছোট্ট ভিডিওই হাজার হাজার মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। ভাঙা বেহালা, ঝাপসা হয়ে আসা চোখ আর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রামের মাঝেও সুরকে আঁকড়ে ধরে থাকা এক প্রবীণ শিল্পীর গল্প এবার পৌঁছে গেল শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রের কাছেও। আর সেই ভিডিও দেখেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন তিনি।
বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে (প্রাক্তন টুইটার) ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় মাহিন্দ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্র জানান, তিনি ওই প্রবীণ বেহালাবাদককে সাহায্য করতে চান। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, "আমি সাহায্য করতে চাই। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক মানুষ তাঁর সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠা দেখে অনুপ্রাণিত হবেন। তবে ভিডিওটিতে কোথায় বা কীভাবে সাহায্য করা যাবে, সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।"
ভিডিওটি শেয়ার করা এক এক্স ব্যবহারকারী জানান, ৮০ বছর বয়সি ভগবান মল্লিক প্রতিদিন ফুটপাথে বসে তাঁর ৪০ বছরের পুরনো ভাঙা বেহালা বাজান। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে এলেও তিনি প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা উপার্জন করেন, যা দিয়ে নিজের এবং স্ত্রীর জীবনযাপন চালানোর চেষ্টা করেন। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও সঙ্গীতই তাঁর জীবনের একমাত্র ভরসা এবং তাঁর আত্মমর্যাদা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাই সকলকে মুগ্ধ করেছে।
আনন্দ মাহিন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অসংখ্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী। অনেকেই মনে করেছেন, শুধু ব্যক্তিগত সাহায্য নয়, এমন মানুষদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, দেশের শিল্পপতি ও কর্পোরেট নেতৃত্বের উচিত একটি স্বচ্ছ ও সংগঠিত সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে আর্থিক সাহায্য, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা সহজেই অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
আরও এক নেটিজেন লেখেন, "ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। তবে পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁদের সাহায্যের প্রয়োজন। প্রত্যেকে যদি অন্তত একজন মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠবে।"
ভগবান মল্লিক
অন্য একজনের কথায়, "জীবন যতই কঠিন হোক, নিজের সামর্থ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই প্রকৃত আত্মমর্যাদা। ভগবান মল্লিক সেই শক্তিরই এক অনন্য উদাহরণ।"
উল্লেখ্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আনন্দ মাহিন্দ্রের এমন উদ্যোগ নতুন নয়। চলতি মাসেই নৈনিতালের এক কিশোর, যে রাস্তায় ম্যাজিক দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে, তার ভাইরাল ভিডিও দেখেও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে হায়দ্রাবাদের মাহিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন আনন্দ মাহিন্দ্র। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাঁর অন্যতম বৃহত্তম দাতব্য প্রতিশ্রুতি। প্রায় ১৪ বছর আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে যে ৪৮ কোটি টাকা (২০১০ সালের মূল্য অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার) অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার তুলনায় এই অঙ্ক দশ গুণেরও বেশি।