মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা! বদল হতে পারে একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব, নতুন মুখ নিয়েও জোর আলোচনা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 7 h ago
মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা! বদল হতে পারে একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব, নতুন মুখ নিয়েও জোর আলোচনা
মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা! বদল হতে পারে একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব, নতুন মুখ নিয়েও জোর আলোচনা
 
নয়াদিল্লি 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শীঘ্রই বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও তারিখ বা সম্ভাব্য নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর, একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব বদলানো হতে পারে, এমনকি কয়েকজনকে মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নামও উঠে এসেছে। পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে নিয়েও নানা জল্পনা চলছে, যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
 
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর থেকেই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
 
এদিকে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্য সংগঠনের নতুন টিম ঘোষণা করেছে। 'মিশন-২০২৭'-এর লক্ষ্য সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দলের আকার আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রদেশ সহ-সভাপতি, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক এবং প্রদেশ সম্পাদক পদে মোট ছয়টি নতুন পদ সংযোজন করা হয়েছে।
 
নতুন টিমে প্রায় ৬০ শতাংশ নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুই ডজনেরও বেশি বর্তমান পদাধিকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মহিলাদের অংশগ্রহণও বাড়ানো হয়েছে। নতুন কমিটিতে সর্বাধিক প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে ওবিসি সম্প্রদায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরপ্রদেশের পর অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড় পরিবর্তন হতে পারে।
 
কাদের নাম বাদ পড়তে পারে?
 
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভও চলছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির পরিবর্তে পাঞ্জাব বা শিখ সম্প্রদায়ের অন্য কোনও নেতাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
 
এছাড়া অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকরি এবং জ্বালানি ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের দফতরেও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
কারা পেতে পারেন নতুন দায়িত্ব?
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভার সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পুত্র। এছাড়া আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডাকেও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা সুখেন্দু শেখর রায়কেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
 
ইতিমধ্যেই ইস্তফা এক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর
 
সম্প্রতি কেরলের প্রবীণ বিজেপি নেতা জর্জ কুরিয়েন রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের পাশাপাশি মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছেন।
 
অন্যদিকে, রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হলেও রবনীত সিং বিট্টু এখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। একইভাবে পঙ্কজ চৌধুরী এবং হর্ষ মালহোত্রাও রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।