বাংলার ঐতিহ্যের মুকুটে ১২ নতুন পালক, GI স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল রাজ্যের শিল্প-সংস্কৃতি

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
কলকাতা

বাংলার ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের ভাণ্ডারে যুক্ত হল আরও এক গর্বের অধ্যায়। ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন (GI) রেজিস্ট্রারে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের ১২টি ঐতিহ্যবাহী পণ্য নতুন করে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে এই পণ্যগুলির ভৌগোলিক স্বাতন্ত্র্য যেমন আইনগত সুরক্ষা পেল, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের পরিচিতি আরও সুদৃঢ় হল।
 
নতুন GI স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের তালিকায় বীরভূমের শান্তিনিকেতনের বাটিক ও শান্তিনিকেতনের একতারা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ, হটোগ্রামের শাঁখা শিল্প ও বিক্রমপুরের বেঙ্গল সিঙ্গিং বোল, হুগলির বলাগড়ের নৌকা এবং জনাইয়ের মনোহরা, কলকাতার কলকাত্তি গয়না, পুরুলিয়ার লাক্ষা, মুর্শিদাবাদের সিল্ক, মালদহের আশাপুরের বেগুন এবং পূর্ব বর্ধমানের নতুন গ্রামের কাঠের পুতুলও এবার GI ট্যাগের মর্যাদা অর্জন করেছে।
 
এদিকে মালদহের নবাবগঞ্জের বেগুন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাইয়ের বাবরশা মিষ্টি এবং শান্তিনিকেতনের আলপনার আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, আগামী দিনে এই তিনটি ঐতিহ্যবাহী পণ্যও জিআই স্বীকৃতির তালিকায় জায়গা করে নেবে।
 
এই বৃহৎ GI আবেদন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস চেয়ার প্রফেসর পিনাকী ঘোষ এবং তাঁর সহকারী গবেষক দল। তাঁদের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৫টি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১২টি সফলভাবে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।
 
এই প্রকল্পে গবেষণা-সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বীরভূমের বাসিন্দা অধ্যাপক শুভদীপ মণ্ডল। তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র প্রস্তুত, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রমাণ উপস্থাপনসহ আবেদন প্রক্রিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি পালন করেন।
 
শুভদীপ মণ্ডল বলেন, “GI ট্যাগ প্রাপ্তির ফলে এই পণ্যগুলির মৌলিক পরিচয় আইনগত সুরক্ষা পাবে। একইসঙ্গে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
 
তিনি আরও বলেন, “শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারার সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই সরকারি স্বীকৃতি সেই ঐতিহ্যকে নতুন মর্যাদা দিল। বীরভূমের সন্তান হিসেবে এই ঐতিহাসিক কাজের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।”
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, GI স্বীকৃতি শুধু একটি পণ্যের পরিচয় রক্ষা করে না, বরং স্থানীয় শিল্প, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির বিকাশেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলার আরও বহু ঐতিহ্যবাহী পণ্য ভবিষ্যতে এই স্বীকৃতি পেলে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে।