এবার কলকাতার গঙ্গার বুকেই ছুটবে ‘ওয়াটার মেট্রো’! সুদৃশ্য এই জলযানে যাত্রীদের কী কী সুবিধা মিলবে?
তরুণ নন্দী / কলকাতা
কলকাতা গণপরিবহণে এবার খুলে যেতে চলেছে নতুন দিগন্ত। কেরলের কোচির পর এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে দেশের ১৮তম শহর হিসেবে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবা। কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করে দিলেন। যানজট কমানোর পাশাপাশি বিকল্প গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পরিবেশবান্ধব এই জলযান শহরের গতিময় ছন্দকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বলা বাহুল্য, গঙ্গা এবং তার শাখানদীগুলিকে কেন্দ্র করে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত চলছে বছরের পর বছর ধরে। নিত্যযাত্রীদের সেই দৈনন্দিন যাতায়াতকে মসৃণ করতে জলপথকে আধুনিক রূপ দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফায় গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা এবং প্রয়াগরাজে ওয়াটার মেট্রো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার সেই তালিকায় কলকাতার নামও যোগ হয়ে গেল।
গঙ্গার বুকে ‘ওয়াটার মেট্রো’
জানা গেছে, ওয়াটার মেট্রো হলো মূলত সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, পরিবেশবান্ধব জলযান। ব্যাটারিচালিত আধুনিক ক্যাটামারান বোট যা সাধারণ ফেরি সার্ভিসের তুলনায় এর গতি বেশি হবে। আর যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য অনেক আরামদায়ক। আসলে কলকাতার রাস্তায় যানজট থেকে মুক্তি পেতে নিত্যযাত্রীদের কাছে এই জলপথ হবে অন্যতম সেরা বিকল্প। এই জলযান কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বলা ভালো, অনেক কম সময়ে নদীর দুই প্রান্তের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
নবান্ন থেকে ওয়াটার মেট্রোর পাশাপাশি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও দুটি বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাজপুর বন্দর প্রকল্প থেকে পূর্বের শিল্পগোষ্ঠী সরে আসার কারণে এবার বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বলা হয়েছে, তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবারে প্রায় ১,৭০০ একর জমিতে নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি, জলপথ ও বন্দর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়গুলির সুষ্ঠ পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র দফতর গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করছে রাজ্য সরকার।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালবাহী নৌপরিষেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও পেশাদারভাবে সম্পন্ন করা যাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। ওয়াটার মেট্রো থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর, জলপথভিত্তিক এই বৃহৎ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে একেবারে ভোলবদলে যাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার। এখন দেখার, কত দ্রুততার সঙ্গে এই রূপরেখা বাস্তবে রূপ নেয়।