আদালতের স্বস্তি, বিধানসভায় পাশাপাশি দুই শিবির: বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে নতুন মোড়

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 11 h ago
আদালতের স্বস্তি, বিধানসভায় পাশাপাশি দুই শিবির: বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে নতুন মোড়
আদালতের স্বস্তি, বিধানসভায় পাশাপাশি দুই শিবির: বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে নতুন মোড়
 
কলকাতা

বাজেট অধিবেশনের সূচনালগ্নেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। একদিকে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান আপাতত বহাল থাকল, অন্যদিকে বিধানসভার সভাকক্ষে পাশাপাশি বসতে দেখা গেল তৃণমূলের মূল শিবির এবং ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের।
 
বাজেট অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল গোষ্ঠী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকবেন। তবে মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। জুলাই মাসে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
 
এই আইনি প্রেক্ষাপটের মধ্যেই অধিবেশনের আগের দিন বিধানসভায় আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা মেটায় সচিবালয়। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের জন্য প্রথম সারিতে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও এই আসন বিন্যাস বিধানসভার অন্দরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
 
হাই কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ এখনও না আসায় ঋতব্রত শিবিরকে এই মুহূর্তে বিধানসভার মেঝেতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলে সেই পরীক্ষার জন্য তাঁরা প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, “বিধানসভায় আমরাই প্রকৃত তৃণমূল। সংখ্যার ভিত্তিতেই তা প্রমাণ করে দিতে পারব।”
 
এদিকে বিদ্রোহী বিধায়কদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা অব্যাহত। দলের একাংশ এনসিপিআইতে যোগদানের পক্ষে মত প্রকাশ করলেও অধিকাংশ বিধায়ক সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে কিছু সাংসদ অন্য রাজনৈতিক মঞ্চে গেলেও বিদ্রোহী বিধায়কদের বড় অংশ আপাতত সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী নন। আইনজীবীদের পরামর্শও স্পষ্ট, আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
 
বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সকাল এগারোটা থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনকে ঘিরে বিধানসভায় প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। তবে অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোচনার পাশাপাশি তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েন এবং বিরোধী দলনেতার পদকে ঘিরে আইনি লড়াইও যে অধিবেশনের রাজনৈতিক আবহকে প্রভাবিত করবে, তা প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


শেহতীয়া খবৰ