অপরাধী ও অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান, ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধের অঙ্গীকার নতুন সরকারের: রাজ্যপাল
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার অপরাধী চক্র, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যেসব অসামাজিক শক্তি প্রশ্রয় পেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে এবং রাজ্যে দীর্ঘদিনের ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয়-ভীতির রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।
বৃহস্পতিবার নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজ্যপাল বলেন, “নতুন সরকার ইতোমধ্যেই সমাজবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বিএসএফের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ভাষণে তিনি আরও বলেন, “সরকার রাজ্য থেকে থ্রেট কালচার ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।” নারী, শিশু এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অবৈধ বালু ও কয়লা পাচারের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করবে।
শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গকে আরও শিল্পবান্ধব রাজ্যে পরিণত করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, মার্চ মাসের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যপালের এই ভাষণ নতুন সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।